মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ইরান আবারও হামলার মুখে পড়লে দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পথে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ৯০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা ইরানের সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর একটি হতে পারে। এ বিষয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়ার কথাও জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য উপযোগী ধরা হয়। ফলে ইরানের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এমন সময় এই বক্তব্য এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। সোমবার (১১ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি এখন টিকে আছে খুবই সংকটপূর্ণ অবস্থায়। ইরানের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে বলে দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। তবে ইরানের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ এখনও কমেনি।
ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই মজুতকে তুলনামূলক অল্প প্রযুক্তিগত প্রচেষ্টায় ৯০ শতাংশ পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, এই মজুত দেশটির বাইরে সরানো বা ধ্বংস না করা পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে উত্তেজনা কমাতে আলোচনা চললেও পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান এখনও বিপরীতমুখী। তেহরান চায় বিষয়টি পরে আলোচনা করতে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন চাইছে ইরান যেন উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে পাঠায় এবং নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যসহ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ ও অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
-20260512125440.webp)

