ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, ২০২৬

ভারতে শিলাধসে ৭ শ্রমিক নিহত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ শিলাধসের ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো সেদিনও শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় প্রায় ৪০ ফুট উঁচু থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। আকস্মিক এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ, উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়।

দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে থাকা এক শ্রমিক জানান, সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। হঠাৎ ওপর থেকে বড় একটি শিলাখণ্ড ভেঙে পড়লে কয়েকজন চাপা পড়েন। পরিস্থিতি বুঝে অনেকেই দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পান।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নিহতরা সবাই বিহারের বিভিন্ন জেলা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ওই পাথরখাদানে কাজ করছিলেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।

এদিকে, আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খনি, পাথরখাদান ও নির্মাণ খাতে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ থাকলেও এমন দুর্ঘটনা এখনও ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।