তালেবান ক্ষমতা পুনর্দখলের পাঁচ বছর পর আফগানিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান, একাডেমিক স্বাধীনতা ও শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে অবনতির অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা জানিয়েছেন, পুরুষ শিক্ষার্থীদের দাড়ি রাখা ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে শাস্তি ও মারধরের ঘটনাও ঘটছে।
কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (ছদ্মনাম হাশমত) জানান, প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে তাকে দাড়ি ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হয়। তার ভাষায়, বাহ্যিক রূপ নিয়ম অনুযায়ী না হলে ক্লাস শুরুর আগেই সমস্যায় পড়তে হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় বক্তৃতা ও প্রকাশ্যে নামাজে অংশ নিতে হচ্ছে, যা অনেক সময় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত চলে। এতে একাডেমিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। মধ্য আফগানিস্তানের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন বা বিতর্কের সুযোগ নেই; শুধু নির্দেশ মেনে চলাই প্রত্যাশিত।
সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আধুনিক বিষয় পড়াচ্ছেন এমন অনেক শিক্ষকই পর্যাপ্ত দক্ষ নন। অনেক অভিজ্ঞ অধ্যাপক দেশ ছেড়েছেন বা চাকরি হারিয়েছেন। তাঁদের পরিবর্তে অনভিজ্ঞ ও আদর্শগতভাবে তালেবানপন্থী প্রভাষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সদ্য স্নাতক ব্যক্তিরাও শিক্ষকতা করছেন।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের উচ্চশিক্ষা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীর ভর্তি শূন্যে নেমে এসেছে। একই সময়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ৩ লাখ ১০ হাজার ৩৬৯ জন থেকে কমে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, শিক্ষার মানের অবনতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাড়ছে। অনেকেই আর বিশ্বাস করেন না যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে।
সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ভাষায়, আমরা এমন একটি দেশে সাংবাদিকতা পড়ছি, যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতার অস্তিত্বই প্রায় নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই থেমে গেলেও শিক্ষার বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো নীরবে চলছে।

