ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে যে বার্তা দিলেন মাহদী আমিন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:৩৮ এএম
ড. মাহদী আমিন। ছবি : সংগৃহীত

বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, মানসিক প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীরা সরকারের কাছে সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন এবং মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। তাই নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা যেমন দায়িত্ব, তেমনি নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করাও জরুরি।

তিনি জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের বাকি বোর্ডগুলোর আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।

মাহদী আমিন আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যেন ভোগান্তিতে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা সময় বৃদ্ধি করার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না, তারা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষার সঙ্গে অংশ নিতে পারবে।

সম্প্রতি কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ওই কেন্দ্রে সাময়িক সমস্যা হলেও প্রশাসনের উদ্যোগে এক ঘণ্টা সময় পিছিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়েছে।

এছাড়া পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, ওই প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ছবি বা ভিডিও পুরো দেশের পরীক্ষার বাস্তব চিত্র নয়। পুরোনো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার না চালানোর আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি পেছনে ফেলে নিজেদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। এই পরীক্ষা শুধু সার্টিফিকেট নয়, বরং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।