ঢাকা রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

‘রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতন করছে আরাকান আর্মি’

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৫, ০৯:৫৯ পিএম
রোহিঙ্গা মুসলিমদের দমন-পীড়ন করছে আরাকান আর্মি। ছবি- সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে রোহিঙ্গাদের চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বাড়িঘর লুট, নির্বিচারে আটক, খারাপ আচরণ, বাধ্যতামূলক শ্রম ও জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন রোহিঙ্গারা।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মতোই এখন আরাকান আর্মিও রোহিঙ্গাদের ওপর কঠোর নিপীড়ন চালাচ্ছে। এটি বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করা উচিত তাদের।’

২০২৩ সালের নভেম্বরে সংঘর্ষ শুরুর পর আরাকান আর্মি জান্তা সরকারের কাছ থেকে রাখাইনের কিছু এলাকা দখল করে। তখন তারা সমঅধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে রোহিঙ্গাদের ওপর বৈষম্যমূলক নীতি অব্যাহত রেখেছে।

এইচআরডব্লিউর তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে সংস্থাটি রাখাইনের বুথিডং এলাকা থেকে পালিয়ে আসা ১২ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নেয়। একজন ৬২ বছর বয়সী শরণার্থী বলেন, ‘আরাকান আর্মির অধীনে আমাদের জীবন ছিল সীমাহীন কড়াকড়িতে ভরা। মাছ ধরা, কাজকর্ম কিংবা চলাফেরা কিছুই ছিল না অনুমতি ছাড়া। খাবারের অভাবে মানুষকে ভিক্ষা করে বাঁচতে হয়েছে।’

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আরাকান আর্মি রোহিঙ্গাদের কৃষিজমি, বসতঘর, গবাদিপশু, এমনকি কবরস্থানও দখল করে নিয়েছে। বুথিডংয়ের কিন টং গ্রামের দুই বাসিন্দা জানান, মে মাসে তাঁদের কবরস্থান ধ্বংস করে ধানক্ষেতে মরদেহ দাফনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া আরসা ও অন্যান্য রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ফের আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এতে মুসলিম রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ রাখাইনদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে।

২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে রাখাইন ও চিন রাজ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। কক্সবাজারে নতুন করে ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থী নিবন্ধিত হয়েছেন, যাঁদের অনেকেই কোনো সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না।

এইচআরডব্লিউ মনে করে, এখনো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা।