দক্ষিণ কোরিয়ায় স্কুলের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে চাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্যারিসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর এ দেশে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আসক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদের মুখপাত্র জানান, বুধবার পাস হওয়া বিলটি আগামী বছরের মার্চ থেকে কার্যকর হবে। নতুন নিয়মে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দেশটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসেও শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আইনের আওতায় মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বা সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে ফোন ব্যবহার করতে পারবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই আইন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও শিক্ষকদের কাজের সহায়তায় মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করবে। এর ফলে শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানায়, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও মানসিক সুস্থতার ওপর মোবাইল ফোনের নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় এই ব্যবহার সীমিত করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন নয়। কমিশন মনে করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের সীমিত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তি নির্ভর সমাজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি প্রতিরোধ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য এ ধরনের আইন কার্যকর ও প্রয়োজনীয়। বিদ্যালয়ে ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ শিক্ষকদের কাজে সুবিধা দেবে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করবে।
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে শিক্ষার্থীরা ফোনের বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।