রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ব্যাঙের বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ। এই ‘হত্যাকাণ্ডে’ রাশিয়ার সরকার সরাসরি জড়িত ছিল বলেও দাবি করেছে তারা। তবে এই অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়েছে মস্কো।
২০০৮ সালে রাশিয়ার গ্যাস খাতের সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘গ্যাজপ্রম’ এবং তেল খাতের সংস্থা ‘রসনেফট’-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আলোচনার জন্ম দেন নাভালনি। এর দুই বছর পর তিনি আইনজীবীদের নিয়ে ‘রসপিল’ নামে একটি দুর্নীতিবিরোধী প্রকল্প হাতে নেন। এই প্রকল্পটি সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর খরচের হিসাব বিশ্লেষণ করে অনিয়ম তুলে ধরতো।
২০১১ সালে তিনি ‘ফাউন্ডেশন ফর ফাইটিং করাপশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি রাশিয়ার উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক মহলের দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে জাহির করেন তিনি। এর ফলে দ্রুতই পুতিনের চক্ষুশূল হন নাভালনি। জালিয়াতির মামলায় তাকে জেলে বন্দি রাখা হয়। সেখানেই বছর দুয়েক আগে তার মৃত্যু হয়।
দাফনের আগে নাভালনির দেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি দেশে পাঠানো হয়েছিল। তদন্তের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার দাবি করেছে, বিষ প্রয়োগের ঘটনাটি অত্যন্ত ‘বর্বর’। রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন লঙ্ঘনের দায়ে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার কাছে অভিযোগ করবে।
নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা গেছে, নাভালনির শরীরে ইকুয়েডরের ডার্ট ব্যাঙের চামড়ায় থাকা প্রাণঘাতী বিষ (এপিবাটিডিন) ছিল।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিবৃতিতে জানিয়েছে, সম্ভবত এর ফলেই তিনি মারা গেছেন। কারাগারে বন্দি থাকা নাভালনির শরীরে এই বিষ প্রয়োগের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ কেবল রুশ প্রশাসনেরই ছিল। ফলে মস্কোই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার বন্য ডার্ট ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়। বদ্ধ থাকা অবস্থায় ডার্ট ব্যাঙ এই বিষ তৈরি করে না। রাশিয়ার প্রকৃতিতেও এই ব্যাঙ পাওয়া যায় না।
এর আগেও নাভালনিকে বিষ প্রয়োগে হত্যার সন্দেহ করা হয়েছিল। এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন ঘটনায় নতুন মোড় যোগ করল। নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনাও গত বছরের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিলেন, ময়নাতদন্তের সময় শরীরে বিষের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল।
রাশিয়ার বার্তাসংস্থা তাস জানিয়েছে, নাভালনিকে হত্যার অভিযোগ সম্পর্কে মস্কোর প্রশাসন বলেছে এটি পশ্চিমা ‘প্রোপাগান্ডা’। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘যখন পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসবে, তখন আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করব।’



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন