ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে অপহৃত ছয় নাগা ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় এক মাস আগে সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী তাদের তুলে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতরা খ্রিস্টান নাগা সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন এবং তাদের মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মণিপুর পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, গত ১৩ মে লেইলোন ভাইপেই গ্রাম থেকে ওই ছয়জনকে অপহরণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, প্রায় ৪৫০ সদস্যের একটি বিশেষ দল এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুর নিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালানো হয়। এরপরই নিখোঁজ ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মণিপুরে জাতিগত অস্থিরতার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের মে মাসে। সে সময় অর্থনৈতিক সুবিধা ও সরকারি চাকরিতে সংরক্ষণ নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায় এবং খ্রিস্টান কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। অভিযোগ রয়েছে, কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তি এক নাগা সদস্যকে অবৈধভাবে আটকে রেখে নির্যাতন করেন। এরপর রাজ্যের তৃতীয় প্রধান জাতিগোষ্ঠী নাগারাও চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন