ভারতের মুম্বাইয়ের বাইকুল্লা এলাকায় মহররম উপলক্ষে আয়োজিত এক শোকমিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণের অভিযোগে ফাইয়াজ প্রেমজি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তার কাছে প্রায় ১৪ হাজার ৯০০টি বিষমিশ্রিত ক্যাপসুল ছিল এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে লক্ষ্য করেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
রোববার (২৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুনের বাসিন্দা ফাইয়াজ প্রেমজি তার বাবার সঙ্গে রঙের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, বাইকুল্লা ও জেজে ফ্লাইওভার এলাকায় চলা মহররমের মিছিলে ব্যথানাশক ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর ওষুধ বলে পরিচয় দিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্যাপসুল বিতরণ করছিলেন।
এদিকে, ওই ক্যাপসুল গ্রহণের পর ১১ জন অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে মিছিলে উপস্থিত সবাইকে ক্যাপসুল না খাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। অসুস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জয়ন্ত মীনা জানান, উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলে জিঙ্ক ফসফাইড নামের অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যা সাধারণত ইঁদুরনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ বিতরণের বৈধ অনুমতি অভিযুক্তের ছিল না বলেও তিনি জানান।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্তের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক এবং হাজার হাজার খালি ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তারের আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্যাপসুল মানুষের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, ফাইয়াজ প্রেমজি ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল এবং প্রায় ৫০ কেজি ফসফরাসও সংগ্রহের অর্ডার দিয়েছিলেন। উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলোতে ভরা ছিল এমন একটি রাসায়নিক, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন যে, মিছিলে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষকে হত্যাই ছিল তার উদ্দেশ্য। এমনকি তিনি অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন বলেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
শনিবার রাতে আদালত তাকে দুই দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৩ ধারায় বিষ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত বিবিএ ডিগ্রিধারী এবং অতীতে ইরান ও ইরাক সফর করেছেন। তার সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে কি না, কিংবা এ ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না—সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ক্যাপসুলগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
জিঙ্ক ফসফাইড কেন এত বিপজ্জনক?
জিঙ্ক ফসফাইড অত্যন্ত বিষাক্ত একটি রাসায়নিক যৌগ। এটি শরীরে প্রবেশ করলে পাকস্থলীর অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ফসফিন গ্যাস তৈরি করে, যা হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, যকৃত, কিডনি এবং মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনে ভেন্টিলেটর সহায়তা দেওয়াই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়।


