ঢাকা রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ দুই দফা ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে।

রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারর উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী দেশটিতে কাজ শুরু করেছেন। আরও কয়েকটি দল পথে রয়েছে।

বুধবার আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর এখনো শত শত পরাঘাত অনুভূত হচ্ছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা ও রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিত মানুষ ও মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

লা গুয়াইরার কারাবালেদা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারকারী দল পৌঁছেছে। সেখানে ধসে পড়া ভবনের নিচে স্বজনদের খুঁজছেন অনেক পরিবার।

৩৩ বছর বয়সী আলেহান্দ্রো সেরানো নিজের ২৪ বছর বয়সী বোন আনা সেরানোকে খুঁজতে পশ্চিম ভেনেজুয়েলার সান ক্রিস্টোবাল থেকে কারাবালেদায় এসেছেন। তার বোন ধসে পড়া বাহিয়া মার ভবনে থাকতেন।

আলেহান্দ্রো বলেন, আমি আশা করি ধ্বংসস্তূপে তাকে পাওয়া যাবে না। এর অর্থ সে এখনো বেঁচে আছে। কিন্তু আমাকে তাকে খুঁজে বের করতেই হবে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উদ্ধার কার্যক্রমে কিছু জায়গায় ভারী যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার ঘাটতি রয়েছে।

লা গুয়াইরার লস কোরালেস এলাকার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী বেইসি রিভাস বলেন, ভূমিকম্পের পর থেকে পরাঘাতের ভয়ে এলাকার অধিকাংশ মানুষ রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।

তিনি বলেন, মৃতদের কথা এবং যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের কথা ভেবে আমাদের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

এদিকে, উদ্ধার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে লা গুয়াইরায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কারাকাস থেকে যাওয়ার প্রধান সড়কেও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সরকারি উদ্ধার দলের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের প্রবেশে অনুমতিপত্র প্রয়োজন হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, শত শত মানুষ নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তবে বিরোধী সমর্থিত একটি ওয়েবসাইটে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে এটি গত এক শতাব্দীতে লাতিন আমেরিকার অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে পরিণত হতে পারে।

ভূমিকম্পের পর দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তিনি নিজেকে পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরলেও এর আগে নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

শনিবার রোমে পোপ লিও ভূমিকম্পে নিহতদের জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার প্রতি আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যে কয়েকশ কোটি ডলারের নতুন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।