পাকিস্তানের করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্স (সিন্ধ) এর একটি ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন সেনাসদস্যসহ মোট ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন হামলাকারীও রয়েছে। এছাড়া অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। রোববার (২৮ জুন) দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, করাচির গুলিস্তান-ই-জোহর ব্লক-৬ এলাকায় প্রথমে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর শুরু হয় ব্যাপক গোলাগুলি। খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে মৌসুমিয়াত চৌরঙ্গি থেকে গুলিস্তান-ই-জোহর ব্লক-৬, কামরান চৌরঙ্গি এবং চমন ইকবাল কলোনির দিকে যাওয়ার কয়েকটি সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, হামলাকারীরা প্রথমে ক্যাম্পের প্রধান ফটকে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। তবে রেঞ্জার্স সদস্যদের দ্রুত প্রতিরোধের মুখে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি।
আইএসপিআরের দাবি, অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং আহত অবস্থায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি আফগান নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, হামলাকারীরা জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীর সদস্য এবং এ হামলার পেছনে ভারতের সমর্থন রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
হামলার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর চলমান ‘আজম-ই-ইস্তেকাম’ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি হামলার পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।


