ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

ভারতে টানা বর্ষণে বিপর্যয়, ভূমিধস  ও দুর্ঘটনায় নিহত ১৩

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০১:৫৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে কয়েক দিন ধরে টানা ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজধানী মুম্বাই, পুনে, ঠাণেসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা, ভূমিধস ও দুর্ঘটনার ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিঘ্ন।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পুনে জেলার একটি পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে কয়েকটি বাড়ি মাটিচাপা পড়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের উদ্ধারকারী দল সোমবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভূমিধসের কারণে সোমবার সকাল থেকে মুম্বাই-পুনে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই শহরের মধ্যে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়েছে এবং অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে রোববার রাতে মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় একটি বাড়ি ধসে ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। দুর্যোগজনিত বিভিন্ন ঘটনায় এ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে।

সোমবার প্রকাশিত আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আপাতত মুম্বাই ও পুনেতে বৃষ্টির তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই। মুম্বাই, রায়গড়, ঠাণে ও পালঘর জেলায় ভারী বর্ষণের পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে।

সবচেয়ে বেশি দুর্যোগের মুখে রয়েছে মুম্বাই ও পুনে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই দুই শহরে লাল সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া বিভাগ। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে সোমবার স্কুল, কলেজ ও সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুনেতে পাহাড় ধসে উদ্ধার অভিযান

পুনে জেলার মাভাল উপজেলার লোহাগড় দুর্গসংলগ্ন এলাকায় গভীর রাতে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ৩০ জন আটকা পড়েছেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ৩০ সদস্যের একটি দল সকাল থেকেই মাটি ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে।

ধসে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা হলেন নন্দু তিকোনে (৬০), মৌলি তিকোনে (৩০) ও অনিতা তিকোনে (৫৫)।

এদিকে, পুনের সদাশিব পেঠ এলাকার একটি তিনতলা ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় খালি করে দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে মানখুর্দে ভবন ধসের ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচ শিশুর বয়স ছিল দুই থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। দুর্যোগে নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনই মুম্বাইয়ের বাসিন্দা। এছাড়া ঠাণেতে রোববার সন্ধ্যায় কামবরী নদীতে ডুবে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য পাঁচ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।

মুম্বাই-পুনে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

সোমবার সকালে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের দ্বিতীয় টানেলের প্রস্থানমুখে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এর ফলে খোপোলি-কুসগাঁও মিসিং লিঙ্ক দিয়ে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, মুম্বাই থেকে পুনে যাওয়ার পুরোনো সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। মাভাল ও তামহিনি ঘাট এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এসব কারণে পুরোনো সড়কেও যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মুম্বাই থেকে পুনে সড়কপথে যাতায়াত না করার অনুরোধ জানিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (এমএসআরডিসি) জানিয়েছে, জননিরাপত্তার স্বার্থে সোমবার ভোর ৪টা থেকে মুম্বাই-পুনে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী।

ট্রেন চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন

কেন্দ্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোরে কারজাট-লোনাভলা ভোরঘাট অংশে ঠাকুরওয়াড়ির কাছে ভূমিধস হয়েছে। এছাড়া খান্ডালা ও মাঙ্কি হিলের মধ্যবর্তী এলাকাতেও ধস নেমেছে। এতে অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন রয়েছে। আরও নয়টি ট্রেন বিকল্প পথে পরিচালনা করা হচ্ছে।

সেন্ট্রাল রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপ্নিল নীলা জানান, ভোরঘাট এলাকায় ভূমিধসের কারণে মুম্বাই ও পুনেগামী রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস, ডেকান এক্সপ্রেস, ডেকান কুইন এবং প্রগতি এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।