মিশরের সঙ্গে একটি বড় প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি চুক্তি অনুমোদন করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) এ চুক্তিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সর্বকালের বৃহত্তম গ্যাস চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ মন্তব্য করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি আজ ইসরায়েলের ইতিহাসের বৃহত্তম গ্যাস চুক্তি অনুমোদন করেছি। আমেরিকান কোম্পানি শেভরন এবং ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে করা এই চুক্তির আওতায় মিশরে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।’
লেভিয়াথান প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র থেকে মিশরে গ্যাস সরবরাহের এই চুক্তির মোট মূল্য ১১২ বিলিয়ন শেকেল, যা প্রায় ৩৪.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। এর আগে গত আগস্টে ইসরায়েল লেভিয়াথান ক্ষেত্র থেকে মিশরে সর্বোচ্চ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের গ্যাস রপ্তানির জন্য একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
মিশরের সঙ্গে এমন এক সময়ে চুক্তিটি স্বাক্ষর হল, যখন গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বলছে, অবরোধ, ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে গাজায় খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। শিশু ও নারীদের মৃত্যুর হার বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই চিত্র ইসরায়েলের নীতির একটি তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরে। একদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহৎ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সহযোগিতা, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও মানবিক দুর্ভোগ। সমালোচকদের দাবি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কথা বললেও গাজায় চলমান সামরিক কার্যক্রম সেই স্থিতিশীলতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সাল থেকে মিশরের গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করে। ফলে দেশটি আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসে এবং ঘাটতি পূরণে ক্রমশ ইসরায়েলের গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন