মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং দোহায় নোঙর করা একাধিক ক্রুজজাহাজে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার পর্যটক। ইরানের ড্রোন হামলা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে জাহাজগুলোর নির্ধারিত যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও দোহা বন্দরে এমএসসি, টিইউআই, সেলেস্টিয়াল ও আরোয়াসহ ছয়টি জাহাজ বর্তমানে অবস্থান করছে। যাত্রীদের অনেকেই দেশে ফিরতে না পেরে জাহাজেই অবস্থান করছেন।
সোমবার (৩ মার্চ) বিকেলে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন হামলাও হয়েছে। এছাড়া আবুধাবি ও কাতারের রাজধানী দোহায়ও বিস্ফোরণের ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। কুয়েত সিটিজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল আংশিকভাবে স্থগিত থাকায় পর্যটকদের দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করায় জাহাজগুলো নিরাপদ জলসীমায় যেতে পারছে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিরর এ তথ্য জানিয়েছে।
জার্মানভিত্তিক ভ্রমণসংস্থা টিইউআইএর ‘মাইন শিফ ৫’ শনিবার যাত্রা শেষ করে দোহায় নোঙর করেছিল। পরবর্তী যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে ‘মাইন শিফ ৪’ জাহাজটিও আটকা রয়েছে। টিইউআই এক বিবৃতিতে জানায়, সীমিত ফ্লাইট সংযোগ ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে ফেরত যাত্রার সময়সূচি নির্ধারণে তারা বিমান সংস্থাগুলোর তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
সেলেস্টিয়াল ক্রুজেস–এর ‘সেলেস্টিয়াল জার্নি’ দোহায় নোঙর করে আছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ৭ মার্চ পর্যন্ত জাহাজটি সেখানেই থাকবে। অনুমতি মিললে যাত্রী নামানো শুরু হবে। বাতিল হওয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে পূর্ণ অর্থ ফেরত বা ভবিষ্যৎ ভ্রমণের জন্য ক্রেডিট দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে এমএসসি ক্রুজেস–এর ‘ইউরিবিয়া’ জাহাজটিও দুবাই বন্দরে অবস্থান করছে। ১ মার্চের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। কোম্পানির এক মুখপাত্র জানান, আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে জাহাজটি বন্দরে রাখা হয়েছে। জাহাজে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং যাত্রী ও ক্রুদের যথাযথভাবে দেখভাল করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এসব জাহাজের যাত্রা অনিশ্চিতই থাকছে।

