ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

শান্তি পরিকল্পনার খসড়া হাতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, মধ্যস্থতায় পাকিস্তান

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
প্রতীকী ছবি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে ‘নরক’ নামিয়ে আনার হুমকি দেওয়ার একদিন পরই সংঘাত নিরসনে একটি খসড়া পরিকল্পনা হাতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। প্রস্তাবটিকে আপাতত ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ বলা হচ্ছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির রোববার (৫ এপ্রিল) সারা রাত ধরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।

এই শান্তি পরিকল্পনায় দুই স্তরের একটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে একটি তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে না।

একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা সোমবার রয়টার্সকে বলেছেন, ইরান প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে কিন্তু কোনো সময়সীমা বা ডেডলাইন তারা মেনে নেবে না। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির শর্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করছেন। এটি মূলত দুই ধাপের একটি চুক্তির অংশ যা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে পারে।

গত রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় একটি পোস্ট দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন যে, সোমবারের মধ্যে ইরান সমঝোতায় না পৌঁছালে এবং মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি না খুললে দেশটির জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোতে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

এদিকে, সোমবারও অঞ্চলজুড়ে নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। গত ৫ সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে এবং ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে।