সদ্যই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক- কে কার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। একদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়ার ফলেই এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই সংঘাতে তাদেরই জয় হয়েছে এবং তাদের শর্ত মেনেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে এসেছে ইরান।
এই প্রেক্ষাপটে চলমান সংঘাতে কে কার প্রস্তাব মেনে নিয়েছে, তা নিয়েই বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।
ইরানের বক্তব্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনায় আসতে বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধ, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের ওপর আলোচনার আহ্বান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শাহবাজ শরিফ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলকে ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানান, যাতে অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়। তিনি জানান, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব অঞ্চলে কার্যকর হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লেবাননসহ সব এলাকায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করবে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।
তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং চীনের হস্তক্ষেপের পরই ইরান এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মত হয়।
ট্রাম্পের ঘোষণা
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর বোমা হামলা স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন।
শর্ত হিসেবে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, অবিলম্বে এবং নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ‘আমরা আমাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছি—এমনকি তার চেয়েও বেশি- এবং এখন একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির পথে অনেক দূর এগিয়েছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করেছে এবং দুই সপ্তাহের এই সময়সীমা চুক্তি চূড়ান্ত করতে সহায়ক হবে।
কায়রো নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ দাবি করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন ইরানকে আলোচনায় বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে রয়টার্স জানায়, যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরাকের বিভিন্ন গোষ্ঠীও দুই সপ্তাহের জন্য তাদের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
অন্যদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষের শত্রুতার অবসান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

