দীর্ঘ দুই দশক পর যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেই ব্যালট হাতে কেন্দ্রে ফিরেছেন ফিলিস্তিনের গাজা ও পশ্চিম তীরের বাসিন্দারা। স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টা থেকে পশ্চিম তীরের পাশাপাশি গাজা উপত্যকার কেন্দ্রীয় অঞ্চল দেইর আল-বালাহ’র বাসিন্দারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ শুরু করেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এটিই প্রথম নির্বাচন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে সেখানকার বাসিন্দারা স্থানীয় প্রতিনিধি নির্বাচনের কোনো সুযোগ পাননি।
ফলে দেইর আল-বালাহ শহরের ভোটাররা দীর্ঘ ১৯ বছর পর এই প্রথম নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে হামাস সরাসরি সিটি কাউন্সিল সদস্য নিয়োগ দিয়ে আসলেও এবার নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজার এই অঞ্চলটিকে নির্বাচনের আওতায় আনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, দেইর আল-বালাহ’কে প্রতীকীভাবে নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ওপর তাদের প্রশাসনিক কর্তৃত্বের দাবি আরও জোরালো হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে হামাস ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে গাজা থেকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।
এদিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় এখনো কয়েক লাখ মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। মানবেতর জীবনযাপনের মধ্যেও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোট দেওয়ার এই সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তবে রামাল্লাভিত্তিক প্রশাসনের অধীনে আয়োজিত এই নির্বাচনের ফলাফল হামাস শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
রামাল্লাভিত্তিক কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এবং গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ৭০ হাজার মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন