জর্ডানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তাদের দাবি, ওই ঘাঁটিতে থাকা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে দূরপাল্লার কঠিন জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যরা অবস্থান করছেন।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির চারটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে সেগুলো ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার এবং সেখানকার একটি প্রধান কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে।
আইআরজিসি বলেছে, এই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে তাদের বৃহত্তর পাল্টা অভিযানের শেষ ধাপ। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিমান ও নৌঘাঁটির ২১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী যেকোনও সামরিক পদক্ষেপের জবাবে তাদের বাহিনী ‘বিধ্বংসী ও চূড়ান্ত’ প্রতিক্রিয়া জানাতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।
এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘আকাশপথে আসা শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু’ প্রতিহত করছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে সেনাবাহিনী দেশটির বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পোস্টে আরও বলা হয়েছে, নাগরিকরা যেন সঠিক তথ্যের জন্য শুধুমাত্র অনুমোদিত সরকারি সূত্রের ওপরই নির্ভর করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন