ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিদ্রোহীরা সরতেই কঙ্গোয় গণকবরের সন্ধান : ১৭১টি মরদেহ উদ্ধার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
কঙ্গোয় গণকবরের সন্ধান। ছবি : সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) অস্থির পূর্বাঞ্চলে এম২৩ বিদ্রোহীরা পিছু হটার পর ভয়াবহ গণকবরের সন্ধান মিলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও একটি নাগরিক অধিকার সংগঠনের দেওয়া তথ্যমতে, উভিরা শহরের উপকণ্ঠে দুটি পৃথক স্থানে অন্তত ১৭১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

দক্ষিণ কিভু প্রদেশের গভর্নর জ্যাঁ-জ্যাক পুরুসি জানিয়েছেন, বিদ্রোহীরা এলাকা ছাড়ার পর উভিরা শহরের কিরোমনি ও কাভিমভিরা নামক স্থানে এই গণকবরগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্রের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, কাভিমভিরা এলাকা থেকে ১৪১টি ও কিরোমনি এলাকা থেকে প্রায় ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় সংগঠন সিভিলিয়ান প্রটেকশন নেটওয়ার্ক-এর এক নেতা দাবি করেছেন, নিহতদের এম২৩ বিদ্রোহীরা হত্যা করেছে। তাদের ধারণা ছিল, এই ব্যক্তিরা সরকারি বাহিনী বা সরকারপন্থি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্য। তবে কঙ্গোর সেনাবাহিনী বর্তমানে ওই এলাকাগুলো ঘিরে রেখেছে এবং নাগরিক সংগঠনগুলোকে তদন্তের জন্য সেখানে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০২১ সাল থেকে এম২৩ (মার্চ ২৩ মুভমেন্ট) বিদ্রোহীরা কঙ্গোর খনিজসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু করে। গত এক বছরে তাদের অগ্রযাত্রা ছিল লক্ষণীয়, ২০২৫ জানুয়ারিতে উত্তর কিভুর রাজধানী গোমা দখল ও দক্ষিণ কিভুর রাজধানী বুকাভু এবং পরে উভিরা শহর নিয়ন্ত্রণ।

তবে সম্প্রতি শান্তি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে বিদ্রোহীরা উভিরা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এম২৩ দাবি করে তারা তুতসি সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় লড়ছে। অন্যদিকে, কঙ্গো সরকার বিদ্রোহীদের মদদ দেওয়ার জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ব কঙ্গোর এই সংঘাত বিশ্বের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।