ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

চিলির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেলেন কট্টর ডানপন্থি নেতা ক্যাস্ত

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৯:৩৪ এএম
হোসে আন্তনিও ক্যাস্ত। ছবি- সংগৃহীত

চিলির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন দেশটির কট্টর ডানপন্থি নেতা হোসে আন্তনিও ক্যাস্ত।চিলির গণতন্ত্রের ৩৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী হোসে আন্তোনিও ক্যাস্ত এবং বামপন্থি জোটের নেতা ও কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ সদস্য জ্যানেট জারার মধ্যে এবার এই ভোটের লড়াই হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত রান অব নির্বাচনে বামপন্থি জোটের নেতা ও কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ সদস্য জ্যানেট জারাকে হারিয়ে তিনি দেশটির ৩৮ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ চিলিয়ান নাগরিক এবারের এই নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট পদে ক্যাস্তকে ভোট দেন। পরাজয় মেনে নিয়েছেন  জ্যানেট জারা ও তার জোট ইউনিটি ফর চিলি।

এবারের নির্বাচনে দারুণ কামব্যাক করেছেন ক্যাস্ত। এর আগে, ২০২১ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট গ্যাবরিয়েল বোরিকের কাছে তিনি হেরে যান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দ্রুত জনপ্রিয়তায় ধস নামে বোরিকের। এ ছাড়া, চিলির আইন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি তিনি।

ফলে তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে এবার বিজয়ী হন ক্যাস্ত। কঠোর অপরাধ দমন ও অভিবাসনবিরোধী বার্তা দিয়ে প্রচার চালানো ক্যাস্তের নির্বাচনি বক্তব্য চিলির অনেক ভোটারের মধ্যেই সাড়া ফেলেছে। ৫৯ বছর বয়সি ক্যাস্ত নির্বাচনি প্রচারে প্রায়ই বলেছেন, ‘দেশটি ভেঙে পড়ছে।’ 

নিজের এই বক্তব্য জোরালো ও বাস্তবসম্মত করতে নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি প্রায়ই বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে বক্তব্য দেন।

এক সময় লাতিন আমেরিকার অন্যতম নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত চিলি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক সংকটে পড়েছে। ভয়াবহ কোভিড-১৯ মহামারি, সহিংস সামাজিক আন্দোলন ও বিদেশি সংগঠিত অপরাধ চক্রের প্রবেশের ফলে দেশটির পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বদলে গেছে।

বহু বিষয়ে ক্যাস্ত চিলির বেশির ভাগ নাগরিকের অবস্থানের তুলনায় অনেক বেশি ডানপন্থি। 

তবুও চার বছর ধরে চলা বামপন্থি সরকারের শাসনামলে অপরাধ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়ায়, পরিবর্তন চান দেশটির অনেক ভোটাররা, আর এ কারণেই নানা আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা ক্যাস্তকে ভোট দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

ক্যাস্ত অবৈধভাবে বসবাসকারী শত শত অভিবাসীকে বহিষ্কারের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি সব ধরনের গর্ভপাতের বিরোধী এমনকি, তিনি সাবেক সামরিক শাসক অগুস্তো পিনোচেটের রক্তপিপাসু স্বৈরশাসনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থনও জানিয়েছেন।