ঢাকা বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

এবার ইরানে সবচেয়ে হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০২:০৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত


এবার ইরানের সবচেয়ে সংবেদনশীল পারমাণবিক অবকাঠামো নাতানজ লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, দেশটির পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজগুলো যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সেই নির্দিষ্ট এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী আঘাত হানবে।

ইরান কি তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজগুলো নাতানজ এলাকার দুর্গম ও ভূগর্ভস্থ ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ সরিয়ে নিয়েছে এবং সেখানে আমেরিকা আক্রমণ চালাবে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প কোনো অস্পষ্টতা না রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ‘সম্ভবত খুব শিগগিরই আমরা সেখানে আঘাত হানতে যাচ্ছি। আর আমাদের এই হামলা ঠেকাতে তাদের (ইরানের) কিছুই করার থাকবে না।’

সাধারণত যেকোনো সামরিক হামলার পূর্বপরিকল্পনা ও রণকৌশল অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হলেও, কেন তিনি আগাম এত খোলামেলা বার্তা দিচ্ছেন, সে বিষয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প বলেন, ‘সাধারণত আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কথা কখনোই আগাম বলতাম না। যদি আমার বিন্দুমাত্র মনে হতো যে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তারা কোনো ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে বা এটি প্রতিহত করতে পারবে, তবে আমি কোনোভাবেই এমন মন্তব্য করতাম না। কিন্তু আমরা খুব শিগগিরই ওই এলাকায় আঘাত হানব এবং সেই আঘাত হবে অত্যন্ত জোরালো।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ইরানিরা এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে বৈঠকে বসতে চায়, কারণ তাদের প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। তারা দেখা করতে মরিয়া হয়ে আছে, এবং যতক্ষণ না তারা অর্থপূর্ণভাবে দেখা করতে প্রস্তুত হচ্ছে, আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতাসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর দেশগুলো বারবার আলোচনার টেবিলে বসার কথা বললেও তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে দুই দেশের চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালী দফায় দফায় বন্ধ করে দেয় ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে। ফলে দুই দেশের এই সংঘাত কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশ্লেষক।