মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন তার এক ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প সবচেয়ে রক্তপিপাসু, যেন এক পাগলা কুকুর। তার মতে, এই প্রেসিডেন্ট মোটেও শান্তিপ্রিয় নন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ সময় তিনি মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদেরও যুদ্ধবাজ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উপদেষ্টা ও ঘনিষ্ঠদের মধ্যে সাংকেতিকভাবে মতামত যাচাই করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডে নিয়ে আপনাদের কী মত?
প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিস্থিতির কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি দেখেন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, তাহলে তিনি তা স্থগিত রাখতে পারেন হামলা। তবে এই সিদ্ধান্ত একমাত্র তিনিই নেন।’
এদিকে ট্রাম্পের আলোচক দল এই চুক্তির পক্ষে চাপ দিচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার মনে করেন, সম্ভব হলে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোনো উচিত। তবে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তারা পিছু হাটতে পারছেন না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সৌদি আরবের নেতৃত্বে, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের শর্ত- ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে, যা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।
ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন, সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হলে ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সংকেত প্রয়োজন। তাদের একজন বলেন, ‘আমরা আলোচনার গভীরে আছি- যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক মার্কিন সূত্র জানিয়েছেন, ‘আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ থাকবে, যা সম্ভাব্য সংকটের ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
প্রতিবেদনের মতে, নির্ধারিত সময়সীমার আগে মধ্যস্থতাকারীরা যখন শেষ মুহূর্তে একটি চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ঘনিষ্ঠ মহলে এ নিয়ে মন্তব্য করছেন।
অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদ ও মার্ক কাপুতো তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্প তার প্রশাসনের সবচেয়ে আগ্রাসী ব্যক্তিত্ব, এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর চেয়েও বেশি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন