× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

পারমাণবিক যুগে প্রবেশ

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

ছবি - রূপালী বাংলাদেশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘ফুয়েল লোডিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও একটা মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে দেশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই কেন্দ্রের জ্বালানি ‘ইউরেনিয়াম’ আসে দেশে। এতদিন সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রকল্প এলাকায় সংরক্ষিত করা ছিল জ্বালানি। আগামীকাল মঙ্গলবার যা রিয়েক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লিপাত্রে বসানো হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই ইউরেনিয়াম-২৩৫ এর সমৃদ্ধ ধাতব পদার্থটি খনির আকরিক থেকে নানা প্রক্রিয়া করে তৈরি করা এই ইউরেনিয়ামের জ্বালানি যেন দেশ এবং পরিবেশের জন্য কোনো হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় এর জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা। এ জন্য ইতোমধ্যে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ভিভিইআর-১২০০ শ্রেণির জেনারেশন ৩ প্লাস রিয়েক্টর স্থাপন করা হয়েছে। অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি বেশি সার্ভিস লাইফের এই কেন্দ্রে মাত্র ১ গ্রাম ইউরেনিয়াম দিয়ে ২৪ হাজার ইউনিট (কিলোওয়াট আওয়ার) বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটম একযোগে কাজ করছে। এই ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে দেশ পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

যদিও কয়েক দফা পিছিয়ে অবশেষে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড করা হচ্ছে। কিন্তু এর নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিতের জন্যই এই বাড়তি সময় উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে জানান, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। সব ঠিকঠাক থাকলে ২৮ এপ্রিল অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার চুল্লিতে ইউরেনিয়াম রড লোড করা হবে। আমাদের সব ধরনের সহায়তা করছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রোসাটম তাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে এই কেন্দ্রের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম সফল করতে কাজ করছে। পারমাণবিক যুগে প্রবেশের জন্য আমাদের অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার।

এ বিষয়ে গতকাল রোববার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাংবাদিকদের বলেন, ফুয়েল লোডিং শেষে আগামী আগস্টে আমরা আলোচিত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারব বলে আমরা আশা করছি। আমরা এটাকে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চেষ্টা করব। ডিসেম্বরের শেষ থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে আমরা ১ হাজার মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে দেব ইনশাআল্লাহ। তিনি জানান, দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং শুরু হবে ২০২৭ সালের জুনে। সে বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে গ্রিডে। তিনি বলেন, সেটার ফুয়েল লোডিং শুরু হবে ২০২৭-এর জুন নাগাদ। তার জন্য আলাদা তিন মাস লাগতে পারে। এরপর আমরা ইনশাআল্লাহ ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট দিতে পারব। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সব নির্দেশনা মেনেই কাজ এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রিড লাইনও প্রস্তুত। এর জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন প্রকল্পটিতে কর্মরত আছেন পাঁচ হাজার রুশ কলাকুশলী ও ২০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। ধাপে ধাপে কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্ব বাংলাদেশি জনবলের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

ফুয়েল লোডিং কী এবং কীভাবে হয় : পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার নাম রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লিপাত্র। এখানেই জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড বা সংযোজন করা হবে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ইউরেনিয়াম-২৩৫ নামের মৌলিক পদার্থ। খনি থেকে সংগ্রহ করে ছোট আকৃতিতে এটি একত্র করা হয়। যার নাম পেলেট। এ রকম কয়েকশ পেলেট একত্র করে একটি ধাতব টিউবে ঢোকানো হয়। যাকে বলা হয় ইউরেনিয়াম রড। অনেক ফুয়েল রড একত্র করে তৈরি করা হয় ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। একেকটা অ্যাসেম্বলি লম্বায় সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার মিটার দৈর্ঘ্যরে হয়। রূপপুরে রিয়াক্টর-১ এ ১৬৩টি এসেম্বলি সংযোজন বা লোড করা হবে। যেগুলোকে আগে থেকেই রাশিয়া থেকে এনে প্রকল্প এলাকায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, এক বছরের জ্বালানি মজুত আছে। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো মেয়াদেই এই জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া।

ইউরেনিয়াম লোড করার পর চুল্লিতে ফিশন বিক্রিয়া চালু করা হবে। এর ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবে। যেটিকে নিয়ন্ত্রণ করে পানিকে বাষ্পে রূপান্তর করা হয়। সেই বাষ্প বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিচালিত করে টারবাইন ঘোরানো হয়। এর ফলে পাওয়া যায় বিদ্যুৎ শক্তি। পুরো প্রক্রিয়াটিই বিজ্ঞানের অপার বিস্ময় এবং নিয়ন্ত্রিত কর্মকা-।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, ফুয়েল লোড তারপর ফিশন বিক্রিয়া ঘটানো, তাপ উৎপাদন ও তা পরিবহন করে টারবাইন ঘোরানোর সকল যন্ত্র প্রস্তুত। প্রতিটি ধাপেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যেতে হবে। একটির কাজ শেষ হলেই অন্যটি শুরু হবে।

কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কেন্দ্রে : বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর এই পারমাণবিক জ্বালানিকে নিউক্লিয়ার ফ্রেশ ফুয়েল পুল স্টোরেজে রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার সেফ গার্ড ডিভিশনের তদারকিতে এই জ্বালানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালুর জন্য টেকনিক্যাল ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রস্তুত করা হয়েছে। ইউরেনিয়াম রাখার স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। সার্বিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যখন পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে, তখনই আমরা জ্বালানি আনতে সক্ষম হয়েছি। এভাবে ৭ বার এসেছে আমাদের জ্বালানি এবং এর মাধ্যমেই পূর্ণতা পেয়েছি ফুয়েল আমদানি কার্যক্রম।

বিদ্যুতের সর্বোচ্চ মূল্য : সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রায় ৩ টন কয়লা প্রয়োজন হলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি খরচ জীবাশ্ম জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম এবং প্ল্যান্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা ব্যয় যেকোনো জীবাশ্ম জ্বালানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কম হওয়ায় এই কেন্দ্রের বিদ্যুতের মূল্য সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ টাকার মধ্যে থাকবে। যা সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গুরুত্বপূর্ণ ১০০ দিন : পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ লোড করতে সাধারণত সময় লাগে ত্রিশ দিন। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে সূক্ষ্মভাবে ২১ দিনেও সম্পন্ন করা সম্ভব। এরপর ইউরেনিয়াম রডকে সঠিক অবস্থানে নিতে হয় এবং নিউট্রন হিট করে ফিশন বিক্রিয়া শুরু হয়। সেটিকে নিয়ন্ত্রণ করে চেইন রিয়াকশনে যেতে হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগে কমপক্ষে ৩৪ দিন। এই ফিশন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপকে কাজে লাগিয়ে পানি ব্যবহার করে বাষ্প তৈরি করা হয়। এরপর বাষ্পকে বিশেষভাবে প্রবাহিত করা হয় টারবাইনে। টারবাইন ঘুরলেই ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রথমে এক শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে এটি দুই শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নেওয়া হয়। এরপরই বিদ্যুৎ চলে যাবে গ্রিডে। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সময় লাগে ৪০ দিন। এর প্রতিটি ধাপেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতে থাকে।

বিদ্যুৎ নেওয়ার গ্রিড কি তৈরি : পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, রূপপুরের বিদ্যুৎ নেওয়ার জন্য জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি প্রস্তুত। এ জন্য যেসব সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কথা সেসব শেষ হয়েছে। প্রকল্প সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি যে মাত্রায় থাকার কথা তা নিয়ে কিছুটা সংশয় জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তবে পিজিসিবির কাজ নিয়ে রূপপুর প্রকল্পে দায়িত্বরত বাংলাদেশিরা সন্তুষ্ট। তবে রূপপুর থেকে শুরুতে খুবই কম পরিমাণ থেকে শুরু হয়ে দিনে দিনে তার প্রবাহ বাড়বে। এবং গ্রিডকে সিনক্রোনাইজড করতে হবে। সবমিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগবে তিন থেকে চার মাস। আর ফুয়েল লোড করার পর পুরোপুরি ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ হতে সময় লাগবে এক বছর। তখন থেকেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে বলে ধরে নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ভূমিকা : পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-আইএইএ’র সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ থেকে চালু এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়াটি মনিটর করে সংস্থাটি। প্রতিটি ধাপে প্রকল্প পর্যবেক্ষণ করে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন দেয় তারা। সবমিলিয়ে নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত যেতে ১৯ ধরনের ধাপ অতিক্রম করতে হয়। আইএইএ এজন্য বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করে। তাদের প্রতিবেদন ঠিক থাকলেই বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে আত্মবিশ্বাস পায় বাংলাদেশের মতো যেকোনো দেশ। তাদের সাথে লিয়াজোঁ করা এবং দেশের পরমাণু শক্তির ব্যবহার পর্যবেক্ষণে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা- পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আইএইএ’র প্রতিবেদনগুলো বেশ ইতিবাচক।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যত চালুর চ্যালেঞ্জ : সাধারণভাবে বলতে গেলে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মূলত একটি মেশিন। যাকে বিশেষ পারমাণবিক প্রকৌশল, বিশেষায়িত উন্নত বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি এবং সিভিল প্রকৌশলের সমন্বয়ে তৈরি করতে হয়। এর প্রতিটি ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগুতে হয়। একই সঙ্গে মেনে চলতে হয় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রটোকল। কোনো বাধা না এলে এই যুগে একেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আট থেকে দশ বছর পর্যন্ত লেগে যায়। যেসব যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয় চালুর সময় সেগুলো সঠিকভাবে সিনক্রোনাইজড হয়েছে কিনা তার একটি কঠিন পরীক্ষা হয়। এমনকি রিয়াক্টর থেকে টারবাইন এবং গ্রিডের নির্মাণ সঠিক হয়েছে কি না সেটাও বড় বিষয়। এসব সমন্বিতভাবে কাজ করলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সফল বলা চলে।

কারা পরিচালনা করবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ বা এনপিসিবিএল। এ জন্য নিয়ন্ত্রিত ও পেশাদার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। যাদের অনেকেই প্রকল্পের নির্মাণ প্রক্রিয়ার সাথেও জড়িত। রাশিয়াতে বেশির ভাগের প্রশিক্ষণও শেষ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, এই জনবল কাঠামো এবং এর প্রশিক্ষণ দিয়েছে রাশিয়া। শুরুতে রাশিয়ার অপারেটরদের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ চুল্লিটি চালু করা হবে। যেখানে সহযোগী হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশিরা। পরে সফলভাবে চালু হওয়ার তিন বছরের মাথায় ধীরে ধীরে নেতৃত্বে আসবেন তারা। পাঁচ-সাত বছরে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশিরাই। এ বিষয়ে কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। রুশ অপারেটরদের সাথে একসাথে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। 

রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা : আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে রাশিয়ান ফেডারেশনের সাথে একটি সাধারণ চুক্তির মাধ্যমে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ২০১৩ সালে সমীক্ষা চুক্তি এবং নির্মাণ চুক্তি হয় ২০১৫ সালে। এই চুক্তি অনুযায়ী এতে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশটি। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন ডলার বা এক লাখ তের হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প সূত্র বলছে, এই ঋণ শোধ দেওয়া শুরু হবে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে। তবে করোনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ডিসেম্বর ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ধারণা করা হচ্ছে, ঋণ পরিশোধ শুরুর সময়ও বাড়ানো হতে পারে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!