নাটোরের গুরুদাসপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে দুই তরুণ উদ্যোক্তার প্রায় ৯০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মশিন্দা চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার গুরুদাসপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুই উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম ও বানী আমিন জানান, তারা যৌথভাবে ১৮ বিঘা আয়তনের দুটি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের আশায় পুকুরের পাড়ে প্রায় ২ হাজার মেহের সাগর ও অনুপম জাতের কলাগাছ রোপণ করেছিলেন। গাছগুলোতে ইতোমধ্যে ফলন আসতে শুরু করেছিল এবং কলা বিক্রি করে ভালো লাভের আশা করেছিলেন তারা।
লিখিত অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম একই গ্রামের নূর ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, সোহরাফ হোসেন রনজু, ইয়াছিন ও মোজাম্মেল হকসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুকুরপাড়ে চড়াও হয়ে প্রায় ৯০০ ফলন্ত কলাগাছ কেটে ফেলে। শুধু কলাগাছ কেটেই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা; একই সঙ্গে পুকুরপাড়ের একটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয় এবং একটি সেচ মোটর লুট করে নিয়ে যায়।
তবে নিজেদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত নূর ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম। তাদের দাবি, এই গাছ কাটার ঘটনার সঙ্গে তারা কোনোভাবেই জড়িত নন। পূর্বের পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে তাদের ফাঁসাতে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মনজুরুল আলম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি ও জীবিকার ওপর এমন আঘাত অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন