কিশোরদের মধ্যকার প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জের ধরে নাটোরের বড়াইগ্রামে চার গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দফায় দফায় চলা এই ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রবীণ ব্যক্তিসহ অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হন। ভাঙচুর করা হয় একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শিবপুর বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই সংঘাত চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন, থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবির নামের এক কিশোরের সঙ্গে শিবপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের ধাক্কাধাক্কি হয়। এর জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় আবির ও তার স্বজনেরা শিবপুর গ্রামের সজীব নামের এক কিশোরকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় সেখানে উপস্থিত গড়মাটি গ্রামের ব্যবসায়ী আবু হানিফ বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। ব্যবসায়ীকে মারধরের খবর গড়মাটি কলোনিতে ছড়িয়ে পড়লে আবু হানিফের স্বজনেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবপুর বাজারে যায়। সেখানে গোপালপুর কলোনি ও শিবপুরের লোকজনের সঙ্গে তাদের প্রথম দফায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
শুক্রবার রাতের সংঘর্ষের পর গতকাল সকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। গোপালপুর, শিবপুর ও পাশের নারায়ণপুর গ্রামের লোকজন একত্র হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ শিবপুর বাজারে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা গড়মাটি গ্রামের ভ্যানচালক নিশাত রহমানকে (৩০) পিটিয়ে গুরুতর আহত করে আটকে রাখে। এ খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির বাসিন্দারাও সশস্ত্র অবস্থায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং প্রতিপক্ষের মাহিম হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরকে মারধর করে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের মধ্যে শিবপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ওয়াজ প্রামাণিকের (৭০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আশু চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
খবর পেয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় পুলিশ ও র্যাবের ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বসে বিষয়টি স্থায়ীভাবে মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। তারা আপাতত আর কোনো ধরনের সংঘাত বা সহিংসতায় না জড়ানোর লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন