চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় বালুভর্তি মিনি ট্রাকের (পিকআপ) সঙ্গে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনের প্রচ- ধাক্কায় ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। তবে চালক ও হেলপার দ্রুত নেমে যাওয়ায় এবং ট্রেনের যাত্রীরা সুরক্ষিত থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
গতকাল রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় মামা ফকির মাজার এলাকার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে জোরারগঞ্জের মামা ফকির মাজারসংলগ্ন একটি রেলক্রসিং পার হচ্ছিল বালুভর্তি ট্রাকটি। চাকার জটিলতায় সেটি হঠাৎ রেললাইনের ওপর আটকে যায়। ঠিক ওই মুহূর্তেই চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছিল। ট্রেনটিকে ধেয়ে আসতে দেখে ট্রাকের চালক ও হেলপার দ্রুত গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে নিরাপদ স্থানে চলে যান। এরপর দ্রুতগামী ট্রেনটি ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে আটকে যায় এবং ট্রেনটি তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পর থামে।
ট্রেনের যাত্রী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সকাল ৮টায় আমরা চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়েছিলাম। ট্রেনটি জোরারগঞ্জ এলাকায় পৌঁছামাত্র হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং পুরো বগি কেঁপে ওঠে। এতে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু দূর গিয়ে ট্রেনটি থামলে আমরা নিচে নেমে দেখি একটি ট্রাক ট্রেনের নিচে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে আটকে আছে। আল্লাহর রহমতে ট্রেনের কোনো যাত্রী আহত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হাই জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পিকআপটি রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে অংশ নেন। পরে জোরারগঞ্জ থানার পুলিশ ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
দুর্ঘটনাস্থালের অদূরে থাকা চিনকি আস্তানা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে উদ্ধারকারী দল ট্রাকটি সরিয়ে নিলে বেলা ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং পাহাড়িকা এক্সপ্রেস পুনরায় সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ফেনী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী জয়দেব শীল দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পিকআপ ভ্যানটি রেললাইন আটকে থাকার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সীতাকু- ও ফেনী থেকে রেলওয়ের প্রকৌশল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি লাইনের ওপর থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত করা সম্ভব হয়। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম ও আপ-ডাউন উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন