× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:৫২ এএম

অবহেলায় ভোলার গ্যাস বঞ্চিত জাতীয় গ্রিড

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৫:৫২ এএম

অবহেলায় ভোলার গ্যাস  বঞ্চিত জাতীয় গ্রিড

দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় পাওয়া গেছে একাধিক গ্যাসকূপের সন্ধান। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) তথ্যমতে, এই জেলায় বর্তমানে কমপক্ষে এক দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাস মজুত আছে। ১৯৯৫ সালে ভোলায় প্রথম শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাপেক্স। সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় ২০০৯ সালে। ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র ভোলা নর্থ এবং ২০২৩ সালে আবিষ্কৃত ইলিশা থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি। এদিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসকূপ আবিষ্কৃত হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারÑ কেউই তা জাতীয় গ্রিডে নিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়নি। সিএনজি বা এলএনজিÑ কোনোভাবেই ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যায়নি। পাইপলাইন তৈরির জন্য ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত পাইপলাইনের ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হলেও থেমে আছে বরিশাল-খুলনার স্টাডি। যদিও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি বলছে, তারা স্টাডির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত; কিন্তু এখনো মেলেনি সরকারের সম্মতি। খুলনা হয়ে ভেড়ামারা দিয়ে উত্তরবঙ্গে ভোলার গ্যাস পৌঁছানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তা অবহেলার কারণে আটকে আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাপেক্সের তথ্যমতে, ভোলায় উত্তোলনযোগ্য আরও ৫ দশমিক ১০৯ টিসিএফ গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) সঙ্গে যৌথ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি গ্যাজপ্রম চার বছর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পর এই গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। কিন্তু উচ্চমূল্যে দেশের বাইরে থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য এবং আমদানিকারক ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু দেশবাসীর কাছে এই খবর চেপে যান। যে ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এখনো। ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারেরও ছিল না কোনো তৎপরতা। বরং তখন এ বিষয়ে মুখোমুখি অবস্থানে ছিল সরকার ও ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভোলার গ্যাস সিএনজি বা এলএনজি আকারে আনতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছিলাম তাদের মতামত নেওয়ার জন্য। প্রাক্কলিত দর ৫০ টাকার মতো শুনে অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মতামতের জন্য ১৬০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হলেও তারা কেউই আগ্রহ দেখাননি। কেউ কেউ ৩০ টাকা দিয়ে কেনার কথা বলেছেন, আবার কেউ ৪০ টাকার কথা বলেছেন। ফলে বিষয়টি আর এগোয়নি।

বিভিন্ন সরকার ভোলার গ্যাস নিয়ে মোট চারটি পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে আছে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নেওয়া, সিএনজিতে রূপান্তর করে জেলার বাইরে নেওয়া, এলএনজি করে জেলার বাইরে নেওয়া এবং ভোলাতেই ইপিজেড, শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানিয়ে সেখানে গ্যাস ব্যবহার করা। সরকারগুলোর তরফে এগুলো নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগও হয়েছে। তবে কোনো সরকারই এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

পেট্রোবাংলার ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সবচেয়ে সাশ্রয়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আনতে প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডিও হয়েছে ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত। এর ইতিবাচক ফলও এসেছে। এখন জিটিসিএল অপেক্ষায় রয়েছে বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত লাইনের ফিজিবিলিটি স্টাডির। স্টাডির ফল ইতিবাচক হলে ভোলা থেকে বরিশাল, বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন তৈরি সম্ভব। এরপর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে এই গ্যাস উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছানো সম্ভব। এখন শুধু অপেক্ষা সরকারের সম্মতির।

উপকূলীয় জেলাটি থেকে বর্তমানে এলএনজি আকারে পাঁচ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের চুক্তি রয়েছে দেশের একটি বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে। এতে প্রতি ঘনমিটারে পরিবহন খরচ ৩০ দশমিক ৬০ টাকাসহ গ্যাসের দাম দাঁড়াচ্ছে ৪৭ দশমিক ৬০ টাকা, যা পাইপলাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের তুলনায় দেড়গুণ বেশি। ৫ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের চুক্তি থাকলেও গড়ে দুই মিলিয়নও জোগান দিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশীয় কোম্পানি ইন্ট্রাকো। এলএনজি বেশি পরিমাণে আনা গেলেও প্রথমে ভোলাতে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে, এরপর নারায়ণগঞ্জে (প্রস্তাবিত) এনে আবার রিগ্যাসিফিকেশন করতে হবে।

এভাবে ভোলা থেকে গ্যাস আনতে খরচ বেশি হবেÑ এমনটা জানিয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) ও বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জটিলতা চলছে। এই সংকট কাটাতে এলএনজি আকারে আনার কথা ভাবা হচ্ছিল। এ লক্ষ্যে ভোলা থেকে এলএনজি আকারে গ্যাস আনার বিষয়ে গ্যাজপ্রম, সিসিডিসি, সিএমসিসহ ৪টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহপত্রও জমা দিয়েছিল। কিন্তু এর থেকে সহজ হচ্ছে পাইপলাইন। জিটিসিএল যেহেতু বলছে তারা ফিজিবিলিটি স্টাডিতে ইতিবাচক ফল পেয়েছে ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত, তাই আমি মনে করি, বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্তও পাইপলাইন তৈরিতে ইতিবাচক ফল আসবে। এতে বৈশি^ক সংকটের মধ্যে দেশের গ্যাস সংকট কিছুটা হলেও কাটবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলার গ্যাস দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি গেম চেঞ্জার হতে পারত। বিশেষ করে শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার উৎপাদনে এই গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই সম্ভাবনা এখনো অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে। শুধু অর্থনৈতিক দিক নয়, কৌশলগত বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় গ্যাস সম্পদ ব্যবহার বাড়াতে পারলে বৈদেশিক নির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোলার উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাপেক্স। এজন্য ভোলায় আরও ১০টি কূপ খনন করা হচ্ছে। এই ১০ কূপের অবস্থা দেখে আরও ৫টি খনন করা হবে। এতে করে ভোলার গ্যাসের উৎপাদন দৈনিক ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে। তবে রাতারাতি এই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে না। বাপেক্স সূত্র বলছে, দ্রুতগতিতে কাজ হলেও এই গ্যাসের উৎপাদন শুরু হতে আরও চার বছর সময় প্রয়োজন হবে। কিন্তু গোল বেঁধেছে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা নিয়ে।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোলার গ্যাস আনার জন্য ভোলা-বরিশাল পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোলা থেকে প্রথমে বরিশাল পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। সেখান থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করে জাতীয় গ্যাস গ্রিডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সংকট তৈরি হয়েছে ভোলার গ্যাস লাইনের নির্মাণ নিয়ে। ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত বেশির ভাগ নদী এবং সাগরবেষ্টিত এলাকা। এখানে পাইপলাইন নির্মাণ করতে হলে বিশাল জলরাশির নিচে দিয়ে পাইপলাইন বসাতে হবে, যা সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ বিষয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই পাইপলাইন নির্মাণে ব্যয় হবে সাত হাজার কোটি টাকা। যদিও এখন পর্যন্ত পাইপলাইনটির সম্ভাব্য জরিপকাজ শেষ হয়নি। এটি শেষ হওয়ার পরই বলা যাবে পাইপলাইন নির্মাণ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কি না। ভোলায় পাইপলাইন নির্মাণের অন্য একটি সংকট হচ্ছে এই খনির গ্যাস শেষ হলে পাইপলাইনটি অলস পড়ে থাকবে।

অন্যদিকে ভোলা থেকে বিপুল গ্যাস আনার অন্য পদ্ধতি হচ্ছে এলএনজি করে আনা। এলএনজি করতে গেলে গ্যাসকে পেশার দিয়ে ১৬২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় তরল করা হয়। এজন্য এলএনজি রূপান্তরের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে হয়। এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রতিবছর এক মিলিয়ন টনের ছোট আকারের অবকাঠামোর জন্য দুই বিলিয়ন ডলার বা ২৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। শুধু এলএনজি করলেই হবে না। এলএনজি আনার পর তা আবার রিগ্যাসিফিকেশন ইউনি করতে হবে। সেখানে আরও এক বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর পাশাপাশি স্থলভাগে পাইপলাইন প্রয়োজন। তবে এক্ষেত্রে সব চাইতে বড় সংকট হচ্ছে এলএনজি আমদানির জাহাজের চলাচল নিয়ে। ছোট আকারের জাহাজ চলতেও নদীতে ৪ থেকে ৫ মিটার ড্রাফট বা গভীরতা প্রয়োজন। ভোলার সঙ্গে সংযুক্ত কোনো নদীর সব জায়গায় এই গভীরতা নেই।

সব মিলিয়ে ভোলার গ্যাস সম্পদকে ঘিরে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই সমানভাবে বিদ্যমান। একদিকে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ, অন্যদিকে অবকাঠামো ও বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতাÑ এই দ্বৈত বাস্তবতায় আটকে গেছে ভোলার গ্যাস। সম্পদ থাকলেও কাজে লাগতে পারছে না বাংলাদেশ।

তবে সব দিক বিবেচনা করেই ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার জন্য সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, দেশে দৈনন্দিন চাহিদার ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য যে কয়টি বিকল্প রয়েছে, তা হলোÑ ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন দ্রুত বাস্তবায়ন, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা। যেহেতু সেখানে আমাদের গ্যাস রয়েছেই, তাই যে উপায়েই হোক না কেন ওই গ্যাস আমরা আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে যদি জিটিসিএল ভোলা-বরিশাল, বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন তৈরিতে সক্ষম হয় তা হলে তাই হবে। দেশের স্বার্থে যা যা করণীয় সব করা হবে।

ভোলায় গ্যাসের মজুতের বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরুল ইমাম বলেন, ভোলা এবং তার আশপাশে যে অঞ্চল আছে তা গ্যাসের জন্য খুব সম্ভাবনাময়। ভোলা দ্বীপে এরই মধ্যে তিনটি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে। এর একটি শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ এবং আরও উত্তরে আছে ইলিশা। এই দ্বীপে আরও গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বীপটি গ্যাসসমৃদ্ধ একটি দ্বীপ। এখান থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেলে সংকটকালে আমাদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!