× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি ফিডে ক্যানসারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৫:৩৩ এএম

ট্যানারি বর্জ্য থেকে  তৈরি ফিডে ক্যানসারসহ  জটিল রোগের ঝুঁকি

ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি মুরগি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে বলে জাতীয় সংসদে বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

গতকাল বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নিলোফার চৌধুরী জানতে চান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোলট্রি ও ফিশ ফিড ক্যানসারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না। এমনটি হলে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেবে কি না। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

মন্ত্রী বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকে। এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়। তিনি বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চামড়াশিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তা পরিবেশে ছড়িয়ে না পড়ে বা পোলট্রি ফিড তৈরিতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা না যায়।

হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে র‌্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান চালিয়েছে বলেও তথ্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অভিযানে অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি পোলট্রি ফিডে ক্যানসারের ঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে একটি প্রমাণিত সত্য। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ট্যানারি স্থানান্তর ও দূষণ রোধে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে ৯৪০৭টি চিকিৎসকের পদ শূন্য : এদিন সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও জানান, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে শূন্য পদ ৯ হাজার ৪০৭টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে ৫ হাজার ৩২টি এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ২৬ হাজার ৫৪৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৮ হাজার ৭৮৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন জানান, সারা দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছে ৭ হাজার ৪২৯ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৫ হাজার ৭৮২টি। নার্সের ১৩ হাজার ৮০৯টি পদের মধ্যে ১২ হাজার ১৪৬ জন কর্মরত আছেন। নার্সের শূন্য পদ ১ হাজার ৬৬৩টি। অন্য কর্মচারীদের ৩ হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২ হাজার ১২০ জন। শূন্য পদ ১ হাজার ৬৬টি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সারা দেশের ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের ১ হাজার ১৩৪টি পদের মধ্যে ৬৪৪ জন কর্মরত এবং ৬৭০টি পদ শূন্য রয়েছে। মিডওয়াইফের ১ হাজার ৩১২টি পদের মধ্যে কর্মরত ৭৪৬ জন এবং শূন্য পদ ৪৬৬টি। অন্য কর্মচারীদের ২ হাজার ৬২৭টি পদের মধ্যে কর্মরত ১ হাজার ৬৮২ জন এবং শূন্য পদ ৯১৫টি। সারা দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসকের ৩ হাজার ১৬৭টি পদের মধ্যে শূন্য পদ ১ হাজার ৭০৭টি। স্যাকমো ৩ হাজার ১৬৫টি পদের মধ্যে কর্মরত ১ হাজার ৬৪৫ জন এবং শূন্য পদ ১ হাজার ৫২০টি।

সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু : সংরক্ষিত আসনের নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে সারা দেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় আরেক সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হান্টাভাইরাস সংক্রমণের আন্তর্জাতিক ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার সীমান্ত স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার, যাত্রীদের স্ক্রিনিং, রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!