ফ্যাসিবাদী কায়দায় সরকার দেশ শাসন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত সরকার সংসদের ভেতরে ও বাইরে যত পদক্ষেপ নিয়েছে, সবগুলোই হচ্ছে অনেকটা বিগত দিনগুলোর কর্তৃত্ববাদী শাসন আমলের বর্ধিতাংশ।’ সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
গতকাল জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আমরা লক্ষ করছি, এই সরকারের ১০০ দিনের অধিক সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে তা জনগণের অধিকার, নির্বাচনি ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের বিপরীত। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসন করছে সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদে এটা অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা সংবিধানে বলা আছে। ওনারা সংসদ অধিবেশনটা করেছেন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী। যাতে তড়িঘড়ি করে বিরোধী দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। সময়সংকট দেখিয়ে যথাযথ বা পর্যাপ্ত আলোচনার সুযোগ না দিয়ে এটাকে পাস করে ফেলা হয়েছে। প্রথম দিনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ স্থগিত হয়েছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে বিরোধী দল এটাকে চ্যালেঞ্জ করেনি।’
১৮ মাসের সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ কিন্তু একটা সংস্কারের অংশ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সেখানে মৌলিক কিছু বিষয় আছে। মানবাধিকার সংরক্ষণের যেসব কমিশন ছিল, সেখান থেকে ২০টি আলোচনা ল্যাপস ও চারটি রহিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০টি অধ্যাদেশের কবর রচনা করা হয়েছে। মৌলিক সংস্কার বাদ দিয়ে এই সংস্কারকে সংস্কার বলা যায় না। তার মানে এ সরকার সংস্কার যে চায় নাÑ এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এবারও প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য আমরা রাজপথে আছি, থাকব। আমরা ধাপে ধাপে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেব। জনগণের অধিকার আদায় করে ছাড়ব। এবারও ১১-দল ঐক্যবদ্ধ আছে, থাকবে।’
দেশে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে আযাদ বলেন, ‘সারা দেশে গত তিন মাসে মোট ফৌজদারি মামলা হয়েছে ৫১ হাজার ৪৮৬টি। দেখা যাচ্ছে, ক্রমশ এর পারসেন্টেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মে মাসে এক লাফে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মামলাসংখ্যা ৫৪ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিন মাসে হত্যাকা- ঘটেছে ৯১৫টি। অত্যন্ত বেদনাদায়ক লোমহর্ষক ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ শিশু রামিসা হত্যাকা- ও গাজীপুরে একই পরিবারে পাঁচজন খুন হওয়ার ঘটনা। এমনকি আগের কায়দায় পুলিশ হেফাজতেও হত্যার ঘটনা আছে।’
তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেন, ‘১০০ দিনে বিএনপি দল হিসেবে ৮৫২টি সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছে। ১০০ দিনে বিএনপির হাতে খুন হয়েছে ৪১ জন। দলীয় কর্মী হিসেবে তারা রাজনৈতিক হত্যাকা- ঘটিয়েছে। ৪১ জন মানুষকে খুন করেছে। তার মধ্যে বিএনপি নিজের দলের ১৮ জন কর্মীকে নিজেরাই খুন করেছে। এই সময়ে বিএনপির হাতে ৪৩ জন নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দুই জায়গায় হামলার শিকার হয়েছেন আমাদের লড়াকু জুলাই যোদ্ধা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী।’
তিনি বলেন, ‘নীরবতা প্রমাণ করে সরকার এই কাজের মদদদাতা এবং মামলা নিতেও গড়িমসি করেছে। তারা আইনের শাসনের কথা বলে, কিন্তু অপরাধী পার পেয়ে যায়’
‘গত ১০০ দিনে লুটপাট ও দখলের ঘটনা ঘটছে ৬১টি। শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে ৬৮টি। এগুলো জাতীয় পরিসংখ্যান নয়, বিএনপির দলীয় অপরাধের পরিসংখ্যান। জনগণের প্রত্যাশার জায়গা কোথায় ছিল আর ওনারা কোন দিকে যাচ্ছেন? আমরা সবাই হতবাক, উদ্বিগ্ন’, মন্তব্য করেন তিনি।
আযাদ বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার শুরুতে বলেছিল, আমরা দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করব না। কিন্তু জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তারা ইতিমধ্যে দুই দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে এবং বিদ্যুতের দামও বাড়িয়েছে। এখন গ্যাসের দামও বাড়িয়েছে। এই জ্বালানির সঙ্গে আমাদের উৎপাদনের সকল কার্যক্রম জড়িত। আমরা জানি, কৃষকরা জ্বালানি ব্যবহার করে। ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয়। সে জায়গায় যদি আপনি দাম বাড়ান, তাহলে এটার প্রভাব জনজীবনে পড়ে। বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে ১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এভাবে এলপিজি গ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে তিন দফায়।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন