× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিল্লাল হোসেন, যশোর

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৬:২০ এএম

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

অপারেশন থিয়েটারে ‘শর্টস্লিপ বাণিজ্যের’ অভিযোগ

বিল্লাল হোসেন, যশোর

প্রকাশিত: জুন ১১, ২০২৬, ০৬:২০ এএম

অপারেশন থিয়েটারে ‘শর্টস্লিপ  বাণিজ্যের’ অভিযোগ

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভিকরিল (সার্জিক্যাল সুতা), প্যাথেডিন ইনজেকশন, হেক্সিসক্রাব, প্লাস্টার ও সফটরোলসহ বিভিন্ন সামগ্রী কেনার নামে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম করে আসছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অতীতে অপারেশন থিয়েটারে কর্মরত কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। এমনকি কয়েকজনকে অন্যত্র দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও উঠেছিল। তবে অপারেশন থিয়েটারের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তাদের দায়িত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন একই বিভাগে দায়িত্ব পালনের সুযোগে কিছু কর্মচারী অপারেশন থিয়েটারে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। রোগী অস্ত্রোপচার কক্ষে প্রবেশের পর স্বজনদের হাতে চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপ ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ওষুধ ও বিভিন্ন সামগ্রী কিনে আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে অনেক ক্ষেত্রে স্বজনদের বিরূপ আচরণের মুখোমুখি হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন ফেরদৌস আহমেদ জানান, তার স্বজন আলমের পায়ের অস্ত্রোপচারের আগে প্রায় ৪ হাজার টাকার ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী কিনে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচার চলাকালে অপারেশন থিয়েটার থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন একটি শর্টস্লিপ দিয়ে আরও কয়েকটি সামগ্রী কিনে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। তালিকায় চারটি প্লাস্টার, দুটি সফটরোল, দুটি ভিকরিল, একটি প্যাথেডিন ও একটি হেক্সিসক্রাব ছিল। এসব কিনতে তার প্রায় দুই হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়।

আরেক রোগীর স্বজন নাসিমা খাতুন অভিযোগ করেন, তার মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় অপারেশন থিয়েটার থেকে একাধিকবার শর্টস্লিপ পাঠিয়ে ওষুধ ও সুতা কিনে আনতে বলা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে একই ধরনের কিছু সামগ্রী কিনে দেওয়ার পরও পুনরায় সেগুলো কেনার কথা বলা হয়েছিল। চিকিৎসকের স্বাক্ষর না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হলেও পরিস্থিতির কারণে তিনি কোনো আপত্তি জানাতে পারেননি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিন একাধিক রোগীর স্বজনকে এভাবে অতিরিক্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব সামগ্রীর প্রকৃত ব্যবহার এবং উদ্বৃত্ত সামগ্রী কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিকিৎসকের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো শর্টস্লিপ দেওয়ার নিয়ম নেই। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসকের স্বাক্ষরবিহীন শর্টস্লিপ ব্যবহার না করার নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোনো কর্মচারী এ ধরনের অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে তা নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!