চার মাস আগে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী এক উচ্চ বিলাসী বাজেট প্রস্তাব করেছেন সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল আকারের উচ্চ বিলাসী বাজেট প্রস্তাবই নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়নও চাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটকে ঋণনির্ভর এবং আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যা ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বাজেটের মূল সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশন শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, মানবিক অর্থনীতি গড়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে, সেজন্য বিভিন্ন বরাদ্দ উল্লেখ আছে। যুব সমাজ, পিছিয়ে পড়া মানুষ, এদের কথাও একই সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সরকার অর্থনৈতিক নীতি কাঠামোকে বাস্তবায়ন করার জন্য যে আর্থিক কাঠামো সেটা অত্যন্ত দুর্বল। আর্থিক কাঠামো যেটা করা হয়েছে তার ভেতরে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক বিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই আর্থিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তাটা সেই জন্য কারণ, অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় ধরনের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে উদারীকরণ, মানবিক অর্থনীতি গঠন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিগতভাবে শক্তিশালী এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ভিত্তি যথেষ্ট দৃঢ় নয় বলে তিনি মনে করেন।
একই দিন প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) তাৎক্ষণিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সামগ্রিকভাবে ২০২৬-২৭ বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়, তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য বলে আমি করি। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বিগত বছরের তুলনায় ১৯.০৪ শতাংশ বেশি। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ৩০.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় চ্যালেঞ্জিং এবং ঘাটতি পূরণে ঋণনির্ভরতা ব্যাংক খাতের পুনরুদ্ধার ও বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণপ্রবাহের জন্য ইতিবাচক নয়। তবে, পরিচালনব্যয় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক। এ ছাড়া, ৩ লাখ কোটি টাকার নতুন এডিপি, যা গত বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি, তবে চলতি বছরের মাত্র ৩৬.১৯ শতাংশ বাস্তবায়ন হার দুর্বল সক্ষমতার প্রমাণ, শুধু বড় বাজেট ও এডিপি নয়, বরং সফল বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে। শুধু তাই নয়, উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে ০.৫ শতাংশ উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামো আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে করছাড় প্রশংসনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ সাধুবাদযোগ্য উল্লেখ করে বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করমুক্ত এবং ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন চালু প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ফ্ল্যাট রেটে টার্নওভার কর ও আলাদা ভ্যাট রিটার্ন ফরম কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ করবে বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ইলেকট্রিক ভিহিকেলে (ইভি) ২০৩০ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি, নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর হ্রাস এবং চার্জিং নেটওয়ার্ক আমদানিতে কর শূন্য করা যুগান্তকারী উদ্যোগ। তবে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননের পদক্ষেপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কম। আমদানি নির্ভর জ্বালানিতে সুনির্দিষ্ট মূল্য কাঠামো না থাকলে স্বল্পমেয়াদি ভর্তুকি বিনিয়োগের পরিবর্তে অপচয় বাড়াবে বলে মনে করে ডিসিসিআই, সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানাচ্ছে। তবে সবার ওপরে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণ না করলে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাজেটে সিঙ্গেল উইন্ডো বাধ্যতামূলক, ওয়ার্ক পারমিট ৭ দিনে, বিদেশি ঋণের সুদে উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে হ্রাস এবং উৎসে কর কর্তনজনিত ব্যয় অগ্রহণযোগ্যতার বিধান বাতিল বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ডিসিসিআই।
তবে আবাসন খাতের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আমরা এখনো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করছি। তবে এ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো আমাদের নজরে এসেছে, তাতে আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত কোনো কার্যকর নীতিসহায়তা বা প্রণোদনার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রডের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ নির্মাণ ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ফ্ল্যাটের মূল্য এবং সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। তিনি বলেন, রিহ্যাব দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। আমরা বিশ্বাস করি, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে প্রকৃত লেনদেন বৃদ্ধি পাবে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। কিন্তু এবারের বাজেটে এ বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ফলে আবাসন খাতের গতি কমে গেলে শুধু ডেভেলপার বা ক্রেতারা নয়, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, আসবাবপত্র, পরিবহনসহ অসংখ্য শিল্প এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হওয়ার ফলে আবাসন খাত আরও সংকুচিত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপরও পড়বে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে আবাসন খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, গৃহায়ণবান্ধব করনীতি প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় আবাসন খাতের বিষয়ে রিহ্যাবের উত্থাপিত প্রস্তাব ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হোক। কারণ আবাসন খাতকে গতিশীল করা মানেই দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা।
গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ব্যাংক খাত, স্থবির বেসরকারি বিনিয়োগ এবং আগের সরকারের সময়কার আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের প্রভাব এখনো বিদ্যমান। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সময়কালে প্রায় ৫০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর গতিতে রয়েছে। এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে আগে কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো সমাধান করা প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি এখন এমন পর্যায়ে এসেছে যেখানে প্রবৃদ্ধির আগে স্থিতিশীলতা জরুরি। ব্যাংকিংব্যবস্থা, বিনিয়োগ অবকাঠামো এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি বাজেটে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকা দরকার।
প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ২০২৬ সালের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, সংকটাপন্ন ব্যাংক খাত এবং অস্থির বেসরকারি বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক ঝুঁকি। তারা দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক রুমানা হক সতর্ক করে বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সফল হবে না। তার মতে, এসব কর্মসূচির জন্য বড় অঙ্কের অর্থায়ন প্রয়োজন এবং সুশাসন ও স্থিতিশীলতা না থাকলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা উপকৃত হবেন না।
বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে আসবে। আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা এই উচ্চ নির্ভরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ইকুইটি মার্কেট ও বন্ড মার্কেট শক্তিশালী না করলে বাজেট কাক্সিক্ষত ফল দেবে না। সরকারের উচিত সম্পদ সিকিউরিটাইজেশন করা এবং বড় কোম্পানিগুলো কেন ব্যবসা করতে আগ্রহ হারাচ্ছে তা খতিয়ে দেখা। একই কথা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিদুল ইসলাম জাহিদ। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে হলে অন্তত ৭ শতাংশ বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। তবে বর্তমানে ঋণের সুদের হার প্রায় ১৫ শতাংশ হওয়ায় বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাত সক্রিয় না হলে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়; তাই আগে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে এবং সুদের হার স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে হবে।
দেশের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, এলডিসি উত্তরণের আগে শিল্পটিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। তাদের অন্যতম দাবি হলো গার্মেন্টস কোম্পানির সবধরনের আয়ের ওপর একই করহার প্রয়োগ করা। বর্তমানে মূল ব্যবসার আয় ও অন্যান্য আয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন করহার প্রযোজ্য হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বিজিএমইএ চায় সবধরনের আয়কে ১২ শতাংশ করপোরেট করের আওতায় আনা হোক। এ ছাড়া সরকারি ভর্তুকির ওপর বর্তমানে যে ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়, তা প্রত্যাহারের দাবি জানাই আমরা। ভর্তুকি শিল্পকে সহায়তা করার জন্য দেওয়া হয়, সেই অর্থের ওপর আবার কর আরোপ করলে প্রণোদনার কার্যকারিতা কমে যায়।
তবে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) প্রস্তাবিত অর্থবিল ২০২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগ-বান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের কৌশলগত থ্রি আর (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন) ফ্রেমওয়ার্ককে স্বাগত জানিয়েছে। কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস ব্যবস্থায় অধিকতর স্পষ্টতা, সরলীকরণ, পূর্বাভাসযোগ্যতা ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে ফাইন্যান্স বিল ২০২৬-কে একটি ইতিবাচক, প্রগতিশীল এবং ব্যবসা-বান্ধব উদ্যোগ হিসেবে দেখছে ফিকি। নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সংস্কারের ওপর এই গুরুত্ব আরোপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন