× UCB Sticker Card
শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:৪৭ এএম

বাজেটে সরকারের ১০ অগ্রাধিকার

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৬, ০৫:৪৭ এএম

বাজেটে সরকারের  ১০ অগ্রাধিকার

বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ১০টি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। উন্নয়নের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এ অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের এই ১০ দফা অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। বাজেট বক্তৃতায় মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করতে সুষম অংশগ্রহণ ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে। উন্নয়নের সুফল যেন কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষায় দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বয় : মন্ত্রী বলেন, সরকার শিক্ষাকে মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। বাস্তবমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে তরুণদের কর্মক্ষম ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা খাতে সংস্কার কার্যক্রমও জোরদার করা হবে।

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা : স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বাজেটে সর্বজনীন ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমিয়ে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষায় জীবনচক্রভিত্তিক পরিকল্পনা : শিশু, কিশোর, কর্মজীবী, নারী, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকসহ সব শ্রেণির মানুষের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষাবলয় গড়ে তুলতে চায় সরকার। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে জোর : পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকা- সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা এবং খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ : বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজ করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা ডিরেগুলেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা : ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে সংস্কার এনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার : শিল্প ও উৎপাদন খাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সরকার বলছে, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি-ব্যবস্থারমাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

আইসিটি রপ্তানিতে নতুন লক্ষ্য : তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে বিশে^র অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি, উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব : জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জনগণের অংশগ্রহণে বনায়ন কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দক্ষ প্রশাসন গঠনের পরিকল্পনা : টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়টিও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব অগ্রাধিকারের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক, মানবিক ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এতে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!