× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:১৮ এএম

নয়াদিল্লিতে সমাপ্ত সীমান্ত সম্মেলন

সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পুশইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৫:১৮ এএম

সীমান্ত হত্যা বন্ধ, পুশইনসহ  বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে চার দিনের সীমান্ত সম্মেলন শেষ হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। এবার আলোচনায় সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, সীমান্তে সহিংসতা প্রতিরোধ, পুশইনের ক্ষেত্রে আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ, সীমান্তে যেকোনো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যৌথ টহল ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সহ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের বিষয়ে  কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়নি।

বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যে ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন গত ৮ জুন ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ জুন। সম্মেলনে বিজিবির ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর, যৌথ নদী কমিশন এবং অন্যান্য সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিনিধিত্ব করেন। অপরদিকে, ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। উভয় প্রতিনিধিদল আগামী নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়।

বিজিবি জানায়, সীমান্তে হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরে সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বিজিবির পক্ষ থেকে। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করা যেতে পারে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল বৃদ্ধি, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়; যাতে অনুপ্রবেশ, সীমান্ত হত্যা ও হামলার ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। ভারত ও বাংলাদেশ নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যা ও হামলার ঘটনাসমূহ তদন্ত করতে একমত হয়েছে। এসব হত্যকা-ের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে সম্মেলনে। 

বিজিবি মহাপরিচালক বিএসএফ কর্তৃক মিয়ানমারের নাগরিকসহ (রোহিঙ্গা) ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুশইন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, যা সীমান্তবিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত পারস্পরিক সিদ্ধান্তসমূহ এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থি। সম্মেলনে সীমান্তে এসব ‘পুশইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ তুলে ধরা হয়। কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে  প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। বিজিবি মহাপরিচালক  বলেন, যেকোনো ব্যক্তি যদি বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে যাচাইকৃত হন, তাহলে তাকে প্রচলিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত গ্রহণ করা হবে।  প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফ মহাপরিচালককে এ ধরনের কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার এবং বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ও প্রটোকল অনুসরণ করার আহ্বান জানান। বিজিবির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সকল অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা উচিত। তারা পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের চেতনায় এসব প্রক্রিয়ার কার্যকর বাস্তবায়নে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিজিবির মহাপরিচালক ভারত থেকে বাংলাদেশে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মাদক বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উল্লেখপূর্বক এটিকে উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে ব্যক্ত করেন। তিনি সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য অবৈধ পণ্যের ক্রমবর্ধমান চোরাচালানের বিষয়টিও তুলে ধরে বলেন, এসব কার্যক্রম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মহাপরিচালকদের নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং সব ধরনের চোরাচালান রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। উভয় পক্ষই মাদকবিরোধী কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে এবং গবাদি পশু চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়েও একমত হয়। তারা সমন্বিত সিমালটেনিয়াস কো-অর্ডিনেটেড প্যাট্রল জোরদার করা এবং ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বাস্তবসম্মত তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়।

সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা অবৈধ অভিবাসীদের ভারতে প্রবেশসংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুপরিচিত। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা/মিয়ানমারের নাগরিকদের তার ভূখ- ব্যবহার করে ভারতে অবৈধভাবে চলাচলের অনুমতি দেয় না। কিছু ক্ষেত্রে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের বিজিবি সীমান্ত বাহিনী আটক করেছে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং বাংলাদেশ কেবল মানবিক কারণে কঠোর তত্ত্বাবধানে তাদের আশ্রয় দিয়েছে।  পরে দুই  পক্ষই অবৈধ আন্তঃসীমান্ত চলাচল প্রতিরোধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়। তারা মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সময়মতো উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়।

সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত বেড়া ও সিকিউরিটি রিলেটেড ওয়ার্কস-সংক্রান্ত বিষয় তুললে বিজিবির মহাপরিচালক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে পাঠানো নোট ভারবালের কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্মিত এসআরএফ  প্যাচসমূহে বেশ কিছু বিচ্যুতি লক্ষ করা হয়েছে। ৩৯টি ক্ষেত্রে বিএসএফ বা ভারতীয় নাগরিকেরা ১৫০ গজ আন্তর্জাতিক সীমার মধ্যে অননুমোদিতভাবে  এসআর এফ বা গবাদি পশু বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো এসআরএফ বা  উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ আবশ্যক। বিজিবির মহাপরিচালক সংশ্লিষ্ট নোট ভারবালে উল্লিখিত বিচ্যুতিগুলো সমাধান ও সংশোধনের আহ্বান জানান।

 সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালকের সীমান্ত পারাপারে জাল ভারতীয় মুদ্রা ও স্বর্ণ চোরাচালানসংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করলে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, ভারতীয় জাল মুদ্র ও স্বর্ণ চোরাচালান উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিজিবি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেক পোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ যন্ত্র স্থাপন করেছে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষই আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্র সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা এবং এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধে জড়িত কার্টেল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়।

পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম : বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক জানান, ভারত সরকার জাতীয়তা নির্বিশেষে সব সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং নিজেদের ভূখ- এ ধরনের কর্মকা-ে ব্যবহারের অনুমতি দেয় না। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিজ নিজ ভূখ-ে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করতে না দেওয়া, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সম্মত হয়।

বিজিবির মহাপরিচালক মুহুরী চর এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, যৌথ জরিপ ও পরিদর্শনের মাধ্যমে সীমান্ত নির্ধারণ ইতোমধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত ও চূড়ান্ত করা হয়েছে। অনিশ্চয়তা এড়ানো এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান অস্থায়ী চিহ্নগুলো যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সীমান্ত পিলার দ্বারা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন। বিজিবির মহাপরিচালক কুষ্টিয়াসহ অন্যান্য সেক্টরে অনুপস্থিত সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে নদীভিত্তিক এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্তের অবশিষ্ট অনির্ধারিত অংশগুলো দ্রুত নির্ধারণের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তিনি দুই দেশের ভূমি জরিপ কর্তৃপক্ষের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার প্রস্তাব দেন, যাতে বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণ বিষয়গুলো সমাধান করা যায় এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত পিলারসংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ সীমান্ত সম্মেলন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অব্যাহতভাবে সমাধান করা হবে। সম্মেলনে তারা সম্মত হয় নদীভিত্তিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকাসহ বকেয়া সীমান্ত নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়সমূহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমিক ও সহযোগিতামূলকভাবে সমাধান করা উচিত।

সীমান্তবর্তী নদীর পানি ব্যবহার ও তীর সংরক্ষণ : বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় দেশ শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর অভিন্ন অংশ থেকে প্রতিটি পক্ষ সর্বোচ্চ ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সম্মত হয়েছে। পানি গ্রহণের ইনটেক চ্যানেল (রহিমপুর খাল) খননের জন্য সম্মতি প্রদানে বিলম্বের কারণে বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তি ব্যাহত হচ্ছে। একাধিক পাম্পের মাধ্যমে একতরফা পানি উত্তোলনসংক্রান্ত উদ্বেগ বিদ্যমান, যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন। যৌথ নদী কমিশনের আওতায় পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা এবং যৌথ মনিটরিং টিমের পরিদর্শন হওয়া দরকার। ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির সেচ কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কর্তৃক রহিমপুর খালের অবশিষ্ট খননকাজ দ্রুত সম্পন্নের জন্য সম্মতি প্রদানের আহ্বান জানিয়ে  অননুমোদিত পানি উত্তোলনের বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন।

নদীতীর সংরক্ষণ কার্যক্রম প্রসঙ্গে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, কুশিয়ারা ও কুলিক নদীসহ কয়েকটি অনুমোদিত প্রকল্প পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পর্যায়ের সমঝোতা থাকা সত্ত্বেও আপত্তির কারণে বিলম্বিত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সীমান্ত জেলায় বন্যা ও ভাঙন প্রতিরোধে ১৭টি জরুরি নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্মতির বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে এবং দ্রুত সহযোগিতার মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোসংক্রান্ত বিষয়সমূহ ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখের সমঝোতা স্মারকের আওতায় গঠিত যৌথ মনিটরিং টিমের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। তারা আরও একমত হয় যে নদীতীর সংরক্ষণসংক্রান্ত বিষয়সমূহ যৌথ নদী কমিশনের পর্যায়ে উপযুক্ত ফোরামে আলোচনা করা হবে।

অননুমোদিত নির্মাণ ও সীমান্ত অবকাঠামোসংক্রান্ত বিধিনিষেধ : বিজিবির মহাপরিচালক পূর্ববর্তী আশ্বাস সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বেড়া (ঝজঋ), গবাদি পশুর বেড়া এবং অন্যান্য কাঠামোর নির্মাণ অব্যাহত থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সীমান্তরেখার নিকটবর্তী এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি, স্ট্রিট লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং অন্যান্য অবকাঠামো স্থাপন সম্পর্কেও উদ্বেগ জানান, যা বিদ্যমান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে চলমান ডিউটি পোস্ট, ধাতব সড়ক ও কংক্রিট কাঠামো নির্মাণের ঘটনাও তুলে ধরেন এবং ১৯৭৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত কর্তৃপক্ষসংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানান।

জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক বলেন, বিদ্যুৎসংক্রান্ত কাজ মূলত সীমান্তবর্তী ভারতীয় জনগণের নাগরিক সুবিধার জন্য এবং তা বাংলাদেশের ভূখ- লক্ষ্য করে নয়। তিনি আরও বলেন, নজরদারিসংক্রান্ত সরঞ্জাম আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের জন্য স্থাপন করা হয়। উভয় পক্ষই সম্মত হয় যে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো অননুমোদিত নির্মাণ কার্যক্রম থেকে তাদের নিজ নিজ মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে বিরত রাখতে নির্দেশ প্রদান করা হবে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান নিয়ম ও প্রটোকল কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। উভয় পক্ষ সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার (ঈইগচ) গুরুত্ব স্বীকার করে এবং বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের সময় যৌথ সমন্বিত টহল (ঝঈচ) জোরদারের বিষয়ে সম্মত হয়। এ ছাড়া অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিয়মিত (প্রতি ছয় মাসে) পর্যালোচনার বিষয়েও একমত হয়।

গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্যসংক্রান্ত উদ্বেগ : বিজিবি মহাপরিচালক বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি, ধর্মীয় বর্ণনা, রাজনৈতিক বিষয় এবং সীমান্ত সম্পর্কিত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিকৃত সংবাদ, গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের তথ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য বিএসএফকে অনুরোধ জানান। তিনি সীমান্ত সম্পর্কিত ঘটনার সময়োপযোগী ব্যাখ্যা প্রদানেরও অনুরোধ জানান, যাতে বিভ্রান্তিকর বর্ণনার সৃষ্টি না হয়। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অপপ্রচার বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদানে সম্মত হয়। সম্মেলন শেষে উভয় মহাপরিচালক বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!