× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০২:১৮ এএম

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর

‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ আখ্যা দিয়ে সংসদে সব দলের ধন্যবাদ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০২:১৮ এএম

‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ আখ্যা দিয়ে  সংসদে সব দলের ধন্যবাদ

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে গতকাল শনিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। প্রস্তাব পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশ সফরে তিনি দেশের মানুষ ও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছেন। এদিকে প্রথম বিদেশ সফর শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

সংসদে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৮ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ সময় পার করে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এই সফর বাংলাদেশের জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে এবং অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি এই সফরে অনেকগুলো চুক্তি সম্পাদন করেছেন। মালয়েশিয়ার এবং একই সঙ্গে গণচীনের সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে।

চীন সফরে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘গণচীনের সঙ্গে ১৭টি এমওইউ হয়েছে মাননীয় স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাইলেটারাল যে মিটিং হয়েছে, সেই মিটিংয়ে এমওইউগুলো সই হয়েছে এবং গণচীনের প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন, সভা করেছেন, বৈঠক করেছেন। অত্যন্ত হৃদ্যতার সঙ্গে এই আলোচনাগুলো হয়েছে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মালয়েশিয়া ও চীন তাদের ভূমিকা শুধু ‘অক্ষুণœই রাখবে না, তা আরও বাড়াবে ও সম্প্রসারিত করবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণের অনুরোধ করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পরে লিখিত প্রস্তাব উত্থাপন করে তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদনেতা জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাতে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিককালে মালয়েশিয়া ও চীন সফর সম্পর্কিত যে প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সংসদে উত্থাপন করেছেন, সেটি সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব হিসেবে উত্থাপিত হলো।’ এরপর বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মির্জা ফখরুলের প্রস্তাবের সঙ্গে তিনি একমত।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে সংবর্ধনার পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসাকে তিনি ‘বিরাট কালচারাল চেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে কালচারাল একটা পরিবর্তন আনার প্রয়োজন, সেটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন।’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ভিত্তি ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সেই অবস্থান, যেখানে প্রতিটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক মর্যাদা, পারস্পরিক স্বার্থ, হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে। আমির খসরু বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে প্রতিটি দেশের সম্পর্ক হবে অন মিউচুয়াল রেসপেক্ট, অন মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট, ওয়ান অফ নন ইন্টারফেয়ারেন্স এবং স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি আমাদের নিজস্ব অটোনমির ভিত্তিতে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় আমাদের শ্রমবাজারের একটা বড় ইন্টারেস্ট রয়েছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের এনার্জির একটা বড় ইন্টারেস্ট রয়েছে এবং অন্যান্য ট্রেড ইন্টারেস্ট রয়েছে। ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্টারেস্ট রয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্কের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

প্রস্তাবের ওপর বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান বলেন, মির্জা ফখরুল যে প্রস্তাব এনেছেন, তিনি তা সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার, আমরা সকলেই স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই, বাস্তবায়ন করতে চাই।’ বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা সকল সহযোগিতায় করব।’ সবকিছুর উপরে আমাদের প্রিয় দেশ। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফরে যাওয়া দেশ দুটি বাংলাদেশের ‘দীর্ঘদিনের বন্ধু’ এবং ‘পরীক্ষিত বন্ধু’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিদেশের সঙ্গে মৌলিক চুক্তি সংসদে আনার আহ্বান জানিয়ে বিরোধী নেতা বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে এই চর্চা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং সরকারের সফলতা কামনা করে বিরোধী নেতা বলেন, সংসদ যেন সব কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু হয়। তিনি বলেন, সংসদকে বাইপাস করে যেন কিছুই না হয়। সবকিছু হোক সংসদের ভেতরে। এই সংসদ আলো ছড়াক। সরকারি দল সব কৃতিত্ব নেবে আর বিরোধী দল সবকিছুতে বিরোধিতা করবে, এমন সংস্কৃতিকে সমর্থন করেন না বলেও জানান তিনি।

আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী দল থেকে প্রস্তাবের ওপর ‘সুচিন্তিত মূল্যবান মতামত’ এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর পররাষ্ট্রনীতিতে ‘নতুন দিগন্তের সূচনা’ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়নের সপক্ষে অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল এই সফর। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তার প্রশ্নে বিশ্ববাসীরও দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কঠিন সময় পার করার কথাও সংসদে বলেন স্পিকার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার সাম্প্রতিক সফরের ফলে দেশবাসী ‘অত্যন্ত আশান্বিত’ হয়েছে মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, সাধারণ মানুষও এই সফর সফলভাবে শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।

পরে স্পিকার মির্জা ফখরুলের উত্থাপিত প্রস্তাবটি ভোটে দেন। তিনি বলেন, “সংসদের সামনে প্রশ্ন হচ্ছে সংসদের অভিমত এই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য এই মহান সংসদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা জনাব তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেÑ যারা এই প্রস্তাবের পক্ষে আছেন তারা ‘হ্যাঁ’ বলুন, যারা প্রস্তাবের বিপক্ষে আছেন তারা ‘না’ বলুন।” এরপর স্পিকার বলেন, ‘আমার মনে হয় হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে, হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। অতএব প্রস্তাবটি এই মহান সংসদ কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হইল।’

এদিকে, ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিদেশ সফরে তিনি দেশের মানুষ ও বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে দলটির চেয়ারম্যান বলেছেন, “আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট বা বাংলাদেশ প্রথম’।” সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি যে কাজটি করার চেষ্টা করেছি, মাননীয় স্পিকার, আমি আমার অবস্থান থেকে আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।’

উল্লেখ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফর শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। গতকাল দুপুরে তিনি ঢাকার জিয়া উদ্যানের মাজার কমপ্লেক্সে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর জানায়, তারেক রহমান তার মা-বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!