বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিস্থিতি নিয়ে ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। গত সপ্তাহের শুরুতে আইনজীবী এ এস এম সাজ্জাদ হায়দারের মাধ্যমে দুবাইয়ে আইসিসির সদর দপ্তরে পাঠানো ওই চিঠিতে বুলবুলের সময়কার বিসিবির সব পরিচালকের পক্ষে আমিনুলের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে।
চিঠির বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। সেসব তথ্য অনুযায়ী, বুলবুল এখনো নিজেকে বিসিবির বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত, বিসিবির জন্য বরাদ্দ আইসিসির তহবিল বন্ধ এবং বাংলাদেশকে আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইসিসির তত্ত্বাবধানে বিসিবির নতুন নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধও করেছেন।
‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইসিসি তহবিল স্থগিতকরণ’ শিরোনামের অংশে বলা হয়েছে, বিসিবির জন্য নির্ধারিত সব আইসিসি তহবিল এসক্রোতে (শর্ত সাপেক্ষে আটকে রাখা) রাখতে হবে অথবা স্থগিত রাখতে হবে, যতক্ষণ না নির্বাচিত বোর্ড পুনর্বহাল হয় অথবা আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় এবং বাংলাদেশে চলমান আদালতের মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়। এ ছাড়া ৭ জুন ২০২৬ সালের নির্বাচনের ভিত্তিতে কর্তৃত্ব দাবি করা কোনো বোর্ডকে আইসিসির তহবিল না দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
‘বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা’ শিরোনামের অংশে বুলবুল দাবি করেছেন, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ভোটার তালিকার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ৭ জুন ২০২৬ সালের বিসিবি নির্বাচন আইসিসির সংবিধানের ২.৪(গ) ও ২.৪(ঘ) ধারার গুরুতর লঙ্ঘন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আইসিসি ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বোর্ডকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি না দিক, নির্বাচিত বোর্ডকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে সরকারকে নির্দেশ দিক এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে আইসিসির সংবিধানের ২.১০(ক) ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। সম্ভাব্য ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বিসিবির পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত, আইসিসির তহবিল বন্ধ এবং বাংলাদেশকে আইসিসির বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে বাদ দেওয়া।
উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের আবেদনের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তামিম দাবি করেছিলেন, রাজধানীর ৭৬টি ক্লাবের মধ্যে ৫০টি ক্লাব তদন্তের পক্ষে মত দিয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এনএসসি বুলবুলকে অপসারণ করে এবং বিসিবির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন