× UCB Sticker Card
সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৭:০০ এএম

হাইভোল্টেজ ম্যাচ

ইউরোপ বনাম আফ্রিকা টিকে থাকার লড়াই

মিনহাজুর রহমান নয়ন

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২৬, ০৭:০০ এএম

ইউরোপ বনাম আফ্রিকা  টিকে থাকার লড়াই

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে। গ্রুপ পর্বের দীর্ঘ লড়াই শেষে শুরু হয়েছে নকআউট পর্ব, যেখানে একটি ভুলই শেষ করে দিতে পারে চার বছরের স্বপ্ন। এবার ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো রাউন্ড অব ৩২ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই পর্বে কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই ৯০ মিনিট, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারে নির্ধারিত হবে কে এগিয়ে যাবে আর কার বিশ্বকাপ শেষ হবে। এই কঠিন পরীক্ষায় মুখোমুখি হচ্ছে তিনবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ নেদারল্যান্ডস এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়া সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। হাইভোল্টেজ ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ জয়ী দল শেষ ষোলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কানাডার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে।

গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস

রোনাল্ড কোমানের দল বিশ্বকাপ শুরু করেছিল কিছুটা সতর্ক ফুটবল দিয়ে। জাপানের বিপক্ষে ড্র করার পর সমালোচনার মুখে পড়লেও দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই পাল্টে যায় দলের চেহারা। সুইডেনের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী জয় এবং শেষ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘এফ’-এর চ্যাম্পিয়ন হয় ডাচরা।

পুরো গ্রুপ পর্বে তারা প্রতিপক্ষের তুলনায় বেশি বলের দখল, বেশি আক্রমণ এবং সংগঠিত ফুটবল উপহার দিয়েছে। শেষ ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে তারা প্রমাণ করেছে, নকআউটের আগে দলটি নিজেদের সেরা ছন্দ ফিরে পেয়েছে।

মরক্কো বিস্ময় এবার বাস্তব শক্তিতে পরিণত

কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। অনেকেই সেটিকে একবারের সাফল্য ভেবেছিলেন, কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপ দেখিয়ে দিয়েছে এটি এখন নিয়মিত বড় দলের কাতারে উঠে এসেছে। ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে নিয়ে গঠিত কঠিন গ্রুপে মরক্কো অপরাজিত থেকেছে। ব্রাজিলের সঙ্গে পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে উঠেছে। বিশেষ করে হাইতির বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ৪-২ গোলের জয় তাদের মানসিক দৃঢতা এবং আক্রমণভাগের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে।

তারকাদের পারফরম্যান্সেই গড়ে উঠেছে দুই দলের আত্মবিশ্বাস

নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগে অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক আবারও নেতৃত্বের উদাহরণ দেখিয়েছেন। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং মাঝমাঠে খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করেছেন, আর টিজিয়ানি রেইন্ডার্স ও রায়ান গ্রাভেনবার্খ আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করেছেন। সামনে কোডি গাকপো, ডনিয়েল মালেন ও ব্রায়ান ব্রবি প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেছেন। ডেনজেল ডামফ্রিসের ওভারল্যাপিং রান এবং উইং দিয়ে আক্রমণও ডাচদের অন্যতম বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

মরক্কোর হয়ে আশরাফ হাকিমি পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ নেতৃত্ব দি.য়েছেন। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ার পাশাপাশি রক্ষণেও সমান কার্যকর ছিলেন তিনি। গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু আগের বিশ্বকাপের মতোই আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। ব্রাহিম দিয়াজ, ইসমাইল সাইবারি এবং ইউসুফ এন-নেসিরি প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিয়মিত সমস্যা তৈরি করেছেন। বিশেষ করে ডাচ ফুটবলে বেড়ে ওঠা সাইবারি গ্রুপ পর্বে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে মরক্কোর অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

খেলার ধরনে স্পষ্ট পার্থক্য

নেদারল্যান্ডস সবসময়ই বল দখলে রেখে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পছন্দ করে। ছোট ছোট পাস, দ্রুত পজিশন পরিবর্তন এবং পুরো মাঠজুড়ে প্রেসিং তাদের ফুটবলের মূল বৈশিষ্ট্য। তারা প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ গড়ে তোলে।

অন্যদিকে মরক্কো অনেক বেশি বাস্তববাদী। শক্তিশালী রক্ষণ গড়ে তুলে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করে, এরপর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠে আসে। হাকিমির গতি, সাইবারির ফিনিশিং এবং ব্রাহিম দিয়াজের সৃজনশীলতা এই কৌশলকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। এই পদ্ধতিতেই তারা গত দুই বিশ্বকাপে বড় বড় দলকে ভুগিয়েছে।

অভিজ্ঞতা বনাম আত্মবিশ্বাস

নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলগুলোর একটি। তিনবার ফাইনাল খেললেও এখনো শিরোপা জেতা হয়নি। তবে বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা তাদের অন্যতম বড় শক্তি। বর্তমান দলের অধিকাংশ ফুটবলার ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবে নিয়মিত খেলেন এবং নকআউট ম্যাচের চাপ সম্পর্কে অভিজ্ঞ।

অন্যদিকে মরক্কোর বর্তমান প্রজন্ম আফ্রিকার ফুটবলে নতুন মানদ- তৈরি করেছে। ২০২২ সালের ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল, আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে ধারাবাহিক সাফল্য এবং ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলা একাধিক ফুটবলারের কারণে দলটি এখন আর কোনো অঘটনের দল নয়; তারা এখন নিয়মিত শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ম্যাচের ভাগ্য

এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস চাইবে শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে মরক্কোকে চাপে রাখতে। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ এবং গাকপোর ফিনিশিং ডাচদের বড় অস্ত্র হবে। অন্যদিকে মরক্কো অপেক্ষা করবে দ্রুত পাল্টা আক্রমণের। হাকিমির গতি, ব্রাহিম দিয়াজের সৃজনশীলতা এবং সাইবারির গোল করার ক্ষমতা যদি কাজে লাগে, তাহলে ডাচ রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে।

সব মিলিয়ে এটি শুধু রাউন্ড অব ৩২-এর একটি ম্যাচ নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই। একদিকে ইউরোপের কৌশলী, বল দখলভিত্তিক ফুটবল; অন্যদিকে আফ্রিকার গতি, শৃঙ্খলা ও অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা। যে দল চাপ সামলে নিজেদের পরিকল্পনা সবচেয়ে নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেবে।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!