পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘অনলাইন জুয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোসহ সাইবার অপরাধ আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এসব চেনা মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের তথ্যপ্রযুক্তিতে আরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো ৪২তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর-২০২৫ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল অপরাধের ধরন, বিশেষ করে সাইবার ক্রাইম মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নয়। সাইবার অপরাধ ফিশিং, অনলাইন জুয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধ আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবসময় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে আপডেট থাকতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল ফরেন্সিকের মতো আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
এর আগে তিনি প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এবারের কুচকাওয়াজে ১৯ জন নারী ও ৪৮১ জন পুরুষসহ মোট ৫০০ শিক্ষানবিশ ক্যাডেট এসআই অংশ নেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান।
আইজিপি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মামলার তদন্ত, সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান আইনশৃঙ্খলা রক্ষা মাঠপর্যায়ে জনমানুষের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার এক অনবদ্য সুযোগ তোমরা পাবে। আশা করি, তোমরা হবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আপসী মার্জিত এবং সৃজনশীল মনমানসিকতা, কর্মক্ষেত্রে নিরপরাধ বিপন্ন বিপদগ্রস্ত মানুষের প্রতি সহযোগিতার বলিষ্ঠ হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
আইজিপি বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনে আরও দক্ষ হতে হবে। সেবা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়। এ সময় তিনি পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সব ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
এক বছর মেয়াদি এই প্রশিক্ষণে বেস্ট ক্যাডেট হিসেবে শাহরিয়ার হাসান সিজান, বেস্ট একাডেমিক হিসেবে সাইফুল ইসলাম, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ ক্যাডেট তৌকির আহমেদ, বেস্ট সুইমার আশরাফুল ইসলাম ও বেস্ট শুটার কামরান শেখ পুরস্কার পেয়েছেন। ৪২তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে প্রশিক্ষণের জন্য মোট ৫০০ এসআই ছিলেন। এর মধ্যে ১৯ জন নারী এসআই রয়েছে। তারা ২০২৫ সালে সারদায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু করেন। গতকাল তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো। এরপর তারা মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে দুই বছরের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত হবেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন