রাজধানীর কল্যাণপুরে এক ব্যবসায়ী ও তার ছেলেকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে একটি ভবনের চিলেকোঠায় আটকে নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেনÑ বিল্লাল (৩৫), জুম্মন (৩০) ও শেখ মো. ফয়সাল (৩৫)। শনিবার রাতে দারুস সালাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল রোববার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪-এর সিপিসি-১-এর কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ব্যবসায়ী। গত ২ জুলাই দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলে ছেলেকে নিয়ে মোহাম্মদপুরে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে বাসায় ফিরছিলেন। পথে কল্যাণপুরে দারুস সালাম জামে মসজিদের নিচে একটি দোকানে পানি কিনতে থামেন। পরে মোটরসাইকেল চালু করার সময় পাঁচ-ছয়জন দেশীয় অস্ত্রের মুখে বাবা-ছেলেকে জিম্মি করে পাশের একটি গলির ভেতর পুরোনো ভবনের চিলেকোঠায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং ও মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পর্যাপ্ত টাকা না পেয়ে তার স্বজনদের ফোন করে টাকা জোগাড় করতে চাপ দেয়। পরে ভুক্তভোগীর এক খালাতো ভাইয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা এনে দেওয়া হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে যাওয়ার আগে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মোটরসাইকেল রেখে দেওয়া হয় এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার পর আহত মাহফুজুর রহমান দুই দিন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে তিনি দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনাটি নজরে এলে তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিনজনকে শনাক্ত করে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দারুস সালাম, শাহ আলী, মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদক, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন