পিরোজপুরের জিয়ানগরে স্মার্ট ফোন চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের দৃশ্য সংবলিত দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার সেউতিবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরের নাম জাকারিয়া (১৭)। সে উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে উপজেলার সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি স্মার্ট ফোন ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক জসিম মল্লিক বাইরে থেকে ফিরে যাওয়ার সময় ওই কিশোরকে বের হতে দেখে সন্দেহ করেন। একপর্যায়ে বাড়ির ভেতরে ফোন না পেয়ে জসিমের মা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর স্থানীয়রা ধাওয়া করে ওই কিশোরকে আটক করে। এ সময় তার কাছে চুরি হওয়া স্মার্ট ফোন দুটি পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোর জাকারিয়াকে স্থানীয় কিছু লোক গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটির মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওতে জাকারিয়াকে চুরির কথা স্বীকার করতেও শোনা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাকারিয়া আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল।
বাড়িটির মালিক জসিম মল্লিক বলেন, আমি গেট দিয়ে ঢোকার সময় ছেলেটিকে বের হতে দেখে সন্দেহ হয়। মা নামাজ পড়ছিলেন, তিনি বেরিয়ে এসে দেখেন ফোন ও মানিব্যাগ চুরি হয়েছে। পরে তাকে আটক করে ফোনগুলো উদ্ধার করি। এ সময় উত্তেজিত হয়ে আমি তাকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছি, তবে স্থানীয় অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চুরির অপরাধ দ-নীয় হলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং এভাবে জনসমক্ষে কাউকে নির্যাতন করা আইনত অপরাধ। অভিযুক্তরা ঘটনার পর বিচারবহির্ভূত এমন কর্মকা- চালিয়েছে, যা আইনের শাসনের পরিপন্থি।
এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার ওসি মো. মোহাব্বত খান জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত আছি। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন