× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশেষ প্রতিনিধি ও রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০২:২০ এএম

জিয়াউলের বিলাসবহুল প্রাসাদে দুদকের হানা

বিশেষ প্রতিনিধি ও রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০২:২০ এএম

জিয়াউলের বিলাসবহুল  প্রাসাদে দুদকের হানা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প। চারপাশের অভিজাত ভবনের মাঝেও আলাদা করে নজর কাড়ে ৯ তলা একটি অট্টালিকা। ভবনের অষ্টম ও নবম তলা মিলিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স। গতকাল সোমবার সকালে সেই ভবনের দরজায় কড়া নাড়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। লক্ষ্য একটাই, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) বরখাস্তকৃত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের জব্দ হওয়া সম্পদের খুঁটিনাটি তালিকা তৈরি এবং অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান।

দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ভবনের প্রতিটি কক্ষ ঘুরে দেখা হয়। বিলাসবহুল আসবাবপত্র, মূল্যবান ব্যবহার্য সামগ্রী, পোশাক-পরিচ্ছদসহ বিভিন্ন সম্পদের ইনভেন্টরি (তালিকা) প্রস্তুত করছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু দালিলিক তথ্যও জব্দ করা হয়েছে; যা চলমান তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে জব্দ করা সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কী পরিমাণ সম্পদ পাওয়া গেছে কিংবা এর আর্থিক মূল্য কত, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত জানানো হয়নি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বিপুল পরিমাণ দামি আসবাবপত্র, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পাওয়া গেছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব নথির মধ্যে আর্থিক অসংগতির তথ্যও থাকতে পারে। ইনভেন্টরি সম্পন্ন হওয়ার পর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হবে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালতের নির্দেশে ভবনটি আগেই জব্দ করা হয়েছিল। বর্তমানে সেটি আদালত নিযুক্ত রিসিভারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ৩৯টি স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। জলসিঁড়ির এই ৯ তলা ভবনও সেই তালিকার অন্যতম। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এসব সম্পত্তির ঘোষিত মূল্য ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪৭৭ টাকা। জব্দ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঢাকার দক্ষিণখান, পল্লবী, মিরপুর ডিওএইচএস ও আশুলিয়ার জমি ও ফ্ল্যাট, নারায়ণগঞ্জের জলসিঁড়ি, কায়েতপাড়া ও নাওড়া এলাকার বাড়ি, প্লট ও কৃষিজমি, বরিশাল সদর ও বাকেরগঞ্জের বাড়ি ও বাগানবাড়ি, ঝালকাঠির বাড়ি ও কৃষিজমি, পটুয়াখালীর কুয়াকাটার জমি এবং মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের কৃষিজমি।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব সম্পদ অর্জন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বাড়ি, তিনটি ফ্ল্যাট এবং ৩ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৫১ শতাংশ কৃষি ও অকৃষি জমি। তদন্ত চলাকালে জব্দ করা সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি না থাকায় সেগুলো বেহাত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ সম্পত্তিগুলোর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রিসিভার নিয়োগের নির্দেশ দেন। জলসিঁড়ির ভবনসহ কয়েকটি সম্পত্তির রিসিভার হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসকদেরও বিভিন্ন সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ারও নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সোমবারের ইনভেন্টরি কার্যক্রম শেষে ভবনটি নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে এবং সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকে জমা রাখতে হবে।

২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, জিয়াউল আহসান নিজের নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার নিজের হিসাবে রাখার অভিযোগও রয়েছে। দুদকের দাবি, তার আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এসব অর্থ স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজার ৩৫৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার চারটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২২২ কোটি ৫০ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পেয়েছে দুদক। সব মিলিয়ে দুই মামলায় প্রায় ৪০ কোটি ৮৭ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।

দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে নিজের পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়াউল আহসান জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ওই বছরের ১৬ আগস্ট তাকে খিলক্ষেত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাজধানীর নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!