সুনামগঞ্জে সার্বিকভাবে নদ-নদীর পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। এর ফলে জেলার সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে এখনো ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবোর বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৩৭ মিটার, যা বিপৎসীমার ০.৪৩ মিটার নিচে অবস্থান করছে। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় একই পয়েন্টে পানির স্তর ছিল ৭.৫০ মিটার। এ ছাড়া লাউরেরগড় পয়েন্টে যাদুকাটা নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭.০৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ১.০২ মিটার নিচে রয়েছে। তবে ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি এখনো পুরোপুরি বিপৎসীমার নিচে নামেনি। সেখানে নদীর পানি ৮.৭৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপৎসীমা (৮.৭০ মিটার)-এর চেয়ে ০.০৬ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের দিনের তুলনায় এই পয়েন্টেও পানির স্তর কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে দিরাই পয়েন্টে কালনী নদীর পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৬.০৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ০.৫০ মিটার নিচে রয়েছে। এ ছাড়া জগন্নাথপুর ও সোলেমানপুর পয়েন্টে যথাক্রমে ৬.৫১ ও ৬ দশমিক ৫৭ মিটার পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এসব পয়েন্টে নির্দিষ্ট বিপৎসীমা নির্ধারিত না থাকায় তুলনামূলক অবস্থার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে উল্লেখযোগ্যহারে বৃষ্টিপাতও কমেছে। এই সময়ে সুনামগঞ্জে ৫ মিলিমিটার, লাউরেরগড়ে ২ মিলিমিটার, ছাতকে ৯ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমলেও ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে থাকায় ওই এলাকার নি¤œাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দাদের এখনো সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন