টানা বৃষ্টিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের রাউৎবাড়ি ও কুকাদাইর গ্রামের সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুই গ্রামের শতাধিক পরিবারের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের উদ্যোগে নির্মিত একটি সরু বাঁশের সাঁকোই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দাসী ইউনিয়নের গোলাপ খাঁর বাড়ির পাশের সড়কটি কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পানিতে তলিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ এবং সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। পরে এলাকাবাসী নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে একটি সরু বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন। তবে সাঁকোটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় পারাপারে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হচ্ছে পথচারীদের। স্থানীয়দের দাবি, অনেক শিক্ষার্থী বই-খাতাসহ সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে আহত হয়েছে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির মরদেহ খাটিয়ায় করে এ পথ দিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে ঘুরপথে কবরস্থানে যেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা গোলাপ খাঁ, আনিছুর রহমান, বিদ্যুৎ হোসাইন ও শিউলি আক্তার জানান, এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিতে সেটি তলিয়ে যাওয়ায় নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে হয়েছে। স্থানীয় সোহাগ তালুকদার বলেন, সড়কটি অচল হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্রমজীবী মানুষ। দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে উপজেলার গোবিন্দাসী, নিকরাইল, ফলদাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেক কাঁচা সড়ক পানিতে তলিয়ে বা কাদায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করছেন।
ইউপি সদস্য মো. আব্দুল আলীম তালুকদার বলেন, বালুমাটি দিয়ে নির্মাণ করায় সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়দের তৈরি সাঁকোটি ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় আরও প্রশস্ত করা হবে।
গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মহির উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর দ্রুত সাঁকোটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পাকাকরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. তোরাব আলী বলেন, নদীবেষ্টিত হওয়ায় উপজেলার অনেক সড়ক বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে সড়কগুলো পাকাকরণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন