শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৬:৩৬ এএম

পিআর পদ্ধতি না বুঝলে  তারা রাষ্ট্র চালাবে কীভাবে: বললেন ডা. আবদুল্লাহ তাহের  

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৬:৩৬ এএম

পিআর পদ্ধতি

পিআর পদ্ধতি

যারা পিআর পদ্ধতি বোঝে না তারা রাষ্ট্র চালাবে কীভাবেÑ প্রশ্ন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি বোঝে না, তাদের রাষ্ট্র চালানোর মতো জ্ঞান নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশ এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখেই নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোটের দাবি করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে পিআর পদ্ধতি, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান এবং এর আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তাহের বলেন, জুলাই আন্দোলনের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশায় জাতি পুরাতনকে বিতাড়িত করেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন নতুন ইস্যু আসবেই। যারা নতুন নতুন ইস্যুতে অস্বস্তিবোধ করে, তারা মূলত নতুন বাংলাদেশ চায় না। তারা আওয়ামী জাহেলিয়া নতুনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রাষ্ট্র কাঠামোর যেখানে সংস্কার প্রয়োজন, সেখানেই একটি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। মুখে স্বীকৃতি দিলেই সংস্কার হয়ে যাবে না, সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়ে একমত হওয়া, তারপর সেই আলোকে আইন তৈরি করা এবং আইনের বাস্তবতা দেওয়া হলেই সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে বলা যাবে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী বারবার জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। জামায়াতে ইসলামীর দাবি গণমানুষের দাবি। যার ফলে দেশের ছোট-বড় প্রায় সব দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও বাস্তবানের দাবি জানিয়ে আসছে। 

তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের ঘোষণা ছিল প্রধান উপদেষ্টার। অথচ প্রধান উপদেষ্টা সংস্কার ও বিচারের দৃশ্যমান রূপ না দিয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যেই রোডম্যাপ দিয়েছেন, সেই রোডম্যাপেই নির্বাচন হতে পারে। এতে জামায়াতে ইসলামীর কোনো আপত্তি নাই। তবে অবশ্যই নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই আলোকে গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। তারপর পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সংসদ ও সরকার গঠন করতে হবে। দেশের ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়। একটিমাত্র দল ব্যতীত অন্য সব দলও পিআর পদ্ধতিতে ভোট চায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনোভাবেই দেশের ৭১ শতাংশ জনগণকে এবং ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলকে উপেক্ষা করে একটিমাত্র দলের জন্য পিআর পদ্ধতি এড়িয়ে যেতে পারে না, পারবে না। 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক সমঝোতায় পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে না পারলে ‘পিআর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য গণভোট দিতে হবে’। যারা পিআর বুঝে না দাবি করে, তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার জ্ঞানও নেই। আসলে পিআর পদ্ধতি তারাও বুঝে কিন্তু মেনে নিতে চায় না। কারণ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে, অস্ত্রবাজি-কেন্দ্র দখল করতে পারবে না বিধায় তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় না। ভয় আর হতাশায় তারা পিআর মেনে নিতে পারছে না। স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে একটি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেউ নির্বাচনে কারচুপি করতে পারবে না। 

পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব হবে। তাই জাতির প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়তে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে পিআর পদ্ধতিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে জনগণ দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে আসবে। বাংলাদেশের মানুষ জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। সংস্কার ও বিচার দৃশ্যমান হবার আগে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। পরিকল্পিত নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছাতে দেবে না। তিনি সরকারি আমলাদের উদ্দেশে বলেন, কোনো কোনো আমলা ধরেই নিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে বোধহয় নির্দিষ্ট একটি দল ক্ষমতায় বসে যাবে। সেজন্য কিছু আমলা নির্বাচনের আগেই এদিক-সেদিকে ঝোঁক দিতে দেখা যাচ্ছে। তিনি আমলাদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ ঘুমিয়ে নেই। জনগণ সব রাজনৈতিক দলকেই পর্যবেক্ষণ করছে। পাথর দিয়ে মানুষ হত্যা করে, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী করে কেউ ক্ষমতায় বসতে পারবে না। পাথর যত পড়বে, ভোটের পারসেন্ট ততই কমবে। এ জন্যই তারা সংস্কার ও বিচারের দাবি না জানিয়ে শুধু নির্বাচন নির্বাচন জিকির করতে শুরু করেছে। নির্বাচন নিশ্চয়ই হবে তবে আগে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিয়ে সংস্কার ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।  

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর যেই দায়িত্ব দিতে চায়, এটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটি হবে জুলাই যোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। যদি নির্বাচিত সরকারকেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হয়, তাহলে জাতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। বড় দল দাবি করা দল গণভোটকে ভয় পায় কেনÑ প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কারণ তারা জনগণের পক্ষে কথা বলে না, কাজ করে না। তাদের কথা ও কাজ শুধু নিজেদের দলীয় স্বার্থে।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!