আজ ২৯ আগস্ট পারমাণবিক পরীক্ষাবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ মহাসচিব তার বার্তায় বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটি উদযাপিত হচ্ছে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা পারমাণবিক ঝুঁকির প্রেক্ষাপটেÑ যার মধ্যে আবারও পারমাণবিক পরীক্ষায় ফেরার আশঙ্কাজনক সম্ভাবনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার ৮০তম বার্ষিকী পালন করছি। গত ৮০ বছরে সংঘটিত দুই হাজারের বেশি পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার উত্তরাধিকার কখনো ভুলতে পারি না। এসব বিস্ফোরণের প্রভাব ছিল ভয়াবহ। পারমাণবিক পরীক্ষা মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে এবং ভূমি ও সাগরকে দূষিত করে। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সংকটের বীজ বপন করে, যার মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারসহ নানা দীর্ঘস্থায়ী রোগ। একই সঙ্গে এগুলো বিশ্বব্যাপী আস্থা, স্থিতিশীলতা ও শান্তির ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। আমরা এটি মেনে নিতে পারি না।
পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধে এ-সংক্রান্ত চুক্তির প্রয়োগ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, সমগ্র পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধ চুক্তি একমাত্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, আইনি বাধ্যবাধকতামূলক উপকরণ, যা সব ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করতে সক্ষম। এর কার্যকারিতা, যা বহু আগেই প্রয়োজন ছিল, আজ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। সব দেশকে আহ্বান জানাই এটি অবিলম্বে এবং শর্তহীনভাবে অনুমোদন করার জন্য। নেতাদের প্রতি বার্তা স্পষ্ট, আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন। আবার যেন বোমার ভাষা না শোনা যায়। এখনই সময় তাদের নীরব করার।
২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত ৬৪তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রতিবছরের ২৯ আগস্টকে পারমাণবিক পরীক্ষাবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেই থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন