ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

যুদ্ধ থামার আভাস, কিন্তু রক্তপাত অব্যাহত

ভূখণ্ড হারাচ্ছে ইউক্রেন, শান্তিপূর্ণ সমাধানের কথা বললেন ট্রাম্প

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬, ০৬:০৫ এএম

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়েও শেষ হওয়ার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না। যুদ্ধক্ষেত্রে একদিকে ইউক্রেন ভূখ- হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দুই পক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রমাগত ভূখ- হারাচ্ছে এবং এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘চতুর ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সামরিক জোটের সহায়তায় ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন এই যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান চায়।

রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের খেরসন, ঝাপোরঝিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে মস্কো। দীর্ঘ এই যুদ্ধে দুই পক্ষের হাজার হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

পৃথক যুদ্ধবিরতি, তবু হামলার হুমকি : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামী ৮ ও ৯ মে দুই দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, ঐতিহ্যগত সামরিক কুচকাওয়াজ উপলক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তারা সতর্ক করেছে, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে ইউক্রেনও পৃথকভাবে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে কিয়েভ বলছে, রাশিয়ার ঘোষণাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, মানুষের জীবন যেকোনো উৎসবের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং যুদ্ধ বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫ : যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও হামলা থেমে নেই। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজের গ্যাস স্থাপনায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন কর্মী ও দুজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৭ জন। ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, প্রথম হামলার পর উদ্ধারকাজে যাওয়া কর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়। এতে বহু উদ্ধারকর্মী আহত হন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এক রাতে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বেশির ভাগ প্রতিহত করা গেলেও বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার কারণে হাজারো মানুষের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

কূটনীতির চেয়ে যুদ্ধের ধোঁয়া ঘন : বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে দুই পক্ষই সামরিক চাপ বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগও বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে শান্তির আলোচনা যত এগোচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ততই বাড়ছে ধ্বংস আর অনিশ্চয়তা।