মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনি জীবিত এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে রুবিও বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে তিনি লিখিত বার্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এবং যেকোনো আলোচনার উত্তর পেতে কয়েক দিন সময় লাগছে। এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, কুয়েত ও বাহরাইন তাদের ভূখ- ব্যবহার করতে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে।
তেহরান বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার উৎস লক্ষ্য করে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাময়িকভাবে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কূটনৈতিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে কুয়েত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে ইরানের সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দেশটির কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলাকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা উচিত। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনও। বেইজিং বলেছে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া কারও স্বার্থে নয় এবং দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশ্লেষকদের মতে, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ¦ালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

