পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলা এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালায় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান। আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও মর্টারের সাহায্যে চালানো ওই হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। হামলার পর জঙ্গিরা বাহিনীর আরও আট সদস্যকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপহৃতদের ছবি প্রকাশ করে হামলার দায় স্বীকার করে। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র বিদ্রোহ মোকাবিলা করছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান ভূখ-ে জঙ্গিরা আশ্রয় পাচ্ছে। যদিও কাবুলের শাসকগোষ্ঠী বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য, একজন পথচারী এবং ছয়জন বিক্ষোভকারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর ২৩ সদস্য ও অন্তত ৫০ জন আন্দোলনকারী। জানা গেছে, কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আইনসভার আসন বহাল রাখার পক্ষে আদালতের রায়ের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই আসন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সমর্থকেরা বিক্ষোভে নামে। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়, চিকিৎসাকেন্দ্র অবরোধ করে এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করেছে। তারা ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
একদিকে জঙ্গি হামলা, অন্যদিকে রাজনৈতিক সহিংসতাÑ সব মিলিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

