ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

বোবা প্রাণীর সাথে শখ্য, ডাকলেই ছুটে আসে দল বেঁধে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভবনগর গ্রামে দেখা মিলবে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের। বর্তমানে ৫-৬টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ২০০টির মতো বিপন্নপ্রায় কালোমুখো হনুমান বসবাস করছে গ্রামটিতে। এসব কালোমুখো হনুমানের জন্য এক কঠিন দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী যুবক নাজমুল।

প্রতিদিন সকালে নিজের কাজ শেষ করেই ছুটে যান গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা হনুমানগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করতে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সামান্য পরিমাণ পাউরুটি, কলা ও বাদামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এত বেশিসংখ্যক হনুমানের জন্য তা একেবারেই অপ্রতুল। ফলে খাদ্যের অভাবে হনুমানগুলো আশপাশের কৃষিজমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করছে। যে কারণে স্থানীয় কৃষকদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হচ্ছে নাজমুলকে। শুধু হনুমানই নয়, বরং সব ধরনের বণ্যপ্রাণী নিয়ে কাজ করেন তিনি। বোবা প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা তার এ পথচলা।

অনেকেই মনে করেন, নাজমুল যেহেতু হনুমানগুলোকে আশ্রয় ও খাবার দিচ্ছে সেহেতু হনুমানগুলো তার। সে প্রাণীগুলোকে আশ্রয় দিয়ে এলাকায় সমস্যা বাড়াচ্ছে। তবে নাজমুলের দাবি, পর্যাপ্ত খাবার ও সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে হনুমানগুলো মানুষের ক্ষতি করবে না।

বন বিভাগের তথ্য মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৫.৪ কেজি কলা, ২ কেজি বাদাম, ২ কেজি রুটি ও ২ কেজি মৌসুমী সবজি/ফল কালোমুখো হনুমানগুলোকে খাবার হিসেবে প্রদান করা হয়।

স্থানীয় কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, এখানে যে হনুমানগুলো আছে তাদের জন্য চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা ফসল খেয়ে নষ্ট করছে। আমরা চাই সরকারের পক্ষ থেকে এদের নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হোক। ঠিকমত খাবার পেলে তারা ফসলের ক্ষতি করবে না।

সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফ মেম্বার বলেন, আমাদের গ্রামে ৫-৬টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ২শ কালোমুখো হনুমানের বসবাস। আমরা তাদের মারধর করেছি, তাড়িয়ে দিয়েছি কিন্তু তারা এলাকা ছেড়ে যায়নি। এখন আগের মতো বড় গাছ ও পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় খাবারের জন্য তারা কৃষকের ফসলের মাঠে হানা দিচ্ছে। নষ্ট করছে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল। বন বিভাগ ও পশুপালন বিভাগ যদি এগুলোর জন্য পর্যাপ্ত বিচরণভূমি ও খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে আমরা কৃষক এবং বোবা প্রাণী উভয়েই বেঁচে যেতে পারি।

স্থানীয় যুবক নাজমুল হোসাইন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, মহেশপুর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী ভবনগর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ৬টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রায় ২শ বিপন্নপ্রায় কালোমুখো হনুমান বসবাস করে আসছে। পর্যাপ্ত বিচরণভূমি ও খাবারের অভাবে তারা কৃষকের ফসল নষ্ট করত। কৃষকেরা তাদের মারধর করত। আমি ১০ বছর আগে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজ উদ্যোগে তাদের চিকিৎসাসহ সার্বিক তত্ত্বাবধানে এগিয়ে আসি।

স্থানীয়রা মনে করেন, এই হনুমানগুলো আমার। হনুমান নিয়ে তাদের অভিযোগের শেষ নেই। ৪ বছর আগে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু কলা, রুটি, বাদাম ও মৌসুমী সবজির ব্যবস্থা করা হয়েছিল যা একেবারেই অপ্রতুল। যে খাবার দেওয়া হয় তা একটি দলের একবেলা ঠিকমতো হয় না। হনুমানগুলোর জন্য অন্তত একবেলা পর্যাপ্ত খাবার ও বিচরণভূমির ব্যবস্থা করা হলে রক্ষা পাবে জীববৈচিত্র্য।

কোটচাঁদপুর বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মহেশপুর উপজেলার ভবনগরে প্রায় ২০০ বিপন্নপ্রায় প্রজাতির কালোমুখো হনুমান রয়েছে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, তারা কৃষকের ফসল খেয়ে নষ্ট করছে। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমরা তাদের কিছু খাবার প্রদান করছি। আমরা সরকারিভাবে খাবারের বরাদ্দ বাড়োনোর জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।