ঢাকা বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের মতো : হামিদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীদের বক্তব্যের মতোই শোনাচ্ছে। সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভিনদেশের স্বার্থ চরিতার্থ করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো আচরণ করছে না। কোনো দেশের মানুষকে সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার বিধান নেই, এটি মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত তিন মাসে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অর্ধশতাধিক পুশইনের ঘটনা ঘটেছে এবং দেড় হাজারেরও বেশি পুশইনের চেষ্টা হয়েছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও দেশপ্রেমিক জনগণের যৌথ ভূমিকার কারণে বড় ধরনের বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি সরকারকে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে ভিনদেশের স্বার্থ রক্ষা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কোনো মূল্যে পুশইন প্রতিহত করা হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই জামায়াত নেতা জানান, গত তিন মাসে সারা দেশে মোট ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৫১ হাজার ছাড়িয়েছে। বিএনপি নিজেদের দলের ১৮ জন নেতা-কর্মীকে খুন করেছে এবং জামায়াতেরও চারজন নিহত হয়েছেন। সরকারের নীরবতাই প্রমাণ করে তারা এসব ঘটনার মদতদাতা বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রমের সমালোচনা করে হামিদুর রহমান বলেন, এই সময়কালে জনগণের অধিকার, নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। সরকার এখন অতীতের ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ পরিচালনা করছে এবং তারা প্রকৃত কোনো সংস্কার চায় না—তা ধাপে ধাপে প্রমাণিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সংস্কারের যে প্রত্যাশা ছিল তা সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা এবং বিএনপির কিছু নেতা জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হতে দেয়নি। বিএনপি জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কারের শপথ লঙ্ঘন করেছে, অথচ বিরোধী দল হিসেবে তারা দুটি শপথই রক্ষা করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সীমান্ত সংক্রান্ত বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, সীমান্তের শূন্যরেখায় পুশইনের শিকার মানুষরা বর্তমানে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। সেখানে সরকারের ভূমিকা একেবারেই অপ্রতুল।

তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, তাকে এই নতজানু অবস্থান থেকে সরে এসে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তিনি ড. জাহেদের বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন এবং পুশইন মোকাবিলায় বিজিবিকে আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতি ও সীমান্ত আগ্রাসনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোট নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১২ জুন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রতিবাদ সভা, ১৫ জুন চট্টগ্রামে সমাবেশ এবং ঢাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথেও এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।