পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে নেমে এসেছে কঠিনতম সংকট। ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মধ্যেই তার প্রতিষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং দলত্যাগের হুমকিতে টালমাটাল হয়ে উঠেছে। এক সময় যিনি টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা করেছিলেন, সেই মমতাকেই এখন নিজের দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিপুলসংখ্যক বিধায়ক প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেছেন। তারা দলীয় আইনসভা শাখার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নতুন বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে দলীয় নথিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও সামনে আসে। সংকট শুধু রাজ্য রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই।
লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের একটি অংশ শাসক জোটকে সমর্থনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি উঠেছে। যদিও মমতা শিবির বিদ্রোহীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেছে, তারা বিশ্বাসঘাতকতার পথ বেছে নিয়েছে। এদিকে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে অপরাধ তদন্ত বিভাগের দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন, তার ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয় এবং বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছে। এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার প্রভাবের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।
ক্ষমতা হারানোর পর সেই ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং দলত্যাগের প্রবণতা বেড়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো হার মানতে নারাজ। তিনি বিদ্রোহকে সুবিধাবাদীদের কর্মকা- বলে উল্লেখ করে দাবি করেছেন, তৃণমূল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, ‘এই দল নেতাদের নয়, কর্মীদের দল।’ এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নÑ এটি কি সাময়িক অস্থিরতা, নাকি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দলের দীর্ঘমেয়াদি পতনের সূচনা? সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পশ্চিমবঙ্গের আগামী দিনের ক্ষমতার সমীকরণ।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন